এখনো মায়ের জন্য অপেক্ষায় আছে মুছা ও কাদের, কি ঘটেছিলো তাদের সাথে?

মো, মুছা (৭), তার পিতার নাম নুর ছৈয়দ। ২০১৭ সালে আগস্টের পরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় বালুখালী ক্যাম্পে। তার পাশে বসা আরেক জনের নাম নুর কাদের (৮) পিতা, ছৈয়দ কাদের, সেও একই ক্যাম্পের আশ্রিত রোহিঙ্গা। সোমবার দুপুরে আগুনের সূত্রপাত হলে তারা ঘর থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসলেও পিতা-মাতার সন্ধান না পেয়ে অবাক দৃষ্টিতে থাকিয়ে আসে ক্যাম্পের দিকে। তারা কোথায় যাবে জিজ্ঞাসা করলে কিছু বলতে পারছে না। তবে তাদের পাশে খুঁজে পাওয়া যায় এক প্রতিবেশীকে। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাদেরকে।

জানা গেছে, সোমবার দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার বালুখালি ক্যাম্প- ৮-ই, ডব্লিউ থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উখিয়া স্টেশন, রামু স্টেশন ও কক্সবাজার স্টেশন এবং সেনাবাহিনীর ফায়ার ইউনিটসহ ৫ ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, শরণার্থী ত্রাণ এ প্রত্যাবাসন কমিশনার, উপজেলা প্রশাসন, সেনা, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সোমবার ভয়াবহ আগুনে দুই শিশুসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহতদের সবাই রোহিঙ্গা। তবে স্থানীয় অন্তত ৩০ জন এ ঘটনায় আহত হয়েছেন।

তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুনের সময় ছোটাছুটি করতে গিয়ে অনেক শিশু হারিয়ে গেছে বলে জানান তাদের স্বজনরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১০ রোহিঙ্গা যুবককে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আগুনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮৬টি ব্লকে ৯ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা। এর মধ্যে স্থানীয়দের বাড়িঘরও রয়েছে। প্রায় ৩২ হাজার রোহিঙ্গা ঘরছাড়া হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে আশপাশের বাড়িঘর এবং কেউ কেউ ট্রান্সজিট ক্যাম্প ও স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। জানা গেছে, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প ৮-ই, ডব্লিউ থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উখিয়া স্টেশন, রামু স্টেশন ও কক্সবাজার স্টেশন এবং সেনাবাহিনীর ফায়ার ইউনিটসহ পাঁচ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।