চুলে মেহেদি লাগানোর আগে অবশ্যই যা করনীয় এবং এর সঠিক নিয়ম ও উপকারিতা!

চুলের যত্নে মেহেদি প্রায় প্রতিটি মানুষই ব্যবহার করে থাকেন। আগের দিনে চুলের যত্নে বা চুলের রং করতে মেহেদিকে ব্যবহার করা হত। চুলের গোড়া মজবুত করা, চুলের রুক্ষতা দূর করা নতুন চুল গজানো থেকে শুরু করে চুলের নানা সম্যসা দূর করে থাকে মেহেদি। কিন্তু মেহেদি লাগানোর আগে কিছু নিয়ম আছে যা অবশ্যই পালনীয়। অনেক সময় এই নিয়ম না মানার কারণে মেহেদির সঠিক ফল পাওয়া সম্ভব হয় না। আসুন জেনে নিই চুলে মেহেদি লাগানোর কিছু টিপস।

১। মাথার তালুতে কোন ইনফেকশন থাকলে: মাথার তালুতে কোন ইনফেকশন থাকলে বা অন্যকোন সমস্যা থাকলে মেহেদি লাগাবেন না। মেহেদি তালুর ইনফেকশন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এক দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। ইনফেকশন ভাল হলে তারপর মেহেদি লাগান। ২। চুল কালার করা থাকলে: আপনি যদি চুল রং করে থাকেন, তবে মেহেদি লাগাবেন না। কেমিকাল রং এবং মেহেদি রং দুটি মিশে আপনার চুলের ক্ষতি করতে পারে। এমনকি চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। চুলে রং লাগানোর ৬ মাস পর মেহেদি লাগাবেন। ৩। ভ্যাসলিনের ব্যবহার: চুলে মেহেদি লাগানোর সময় কপাল, কানের আশেপাশে মেহেদি লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কপালে, কানের আশেপাশে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। এতে করে এই অংশগুলোতে মেহেদি রং লাগবে না। ৪। লেবুর রসের ব্যবহার: অনেকেই মেহেদির প্যাকে লেবুর রস ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু মেহেদিতে লেবুর রস ব্যবহার করা উচিত নয়। লেবুর রসে অ্যাসিড আছে যা চুলকে শুষ্ক করে দেয়। লেবুর রসের পরিবর্তে আপনি চায়ের লিকার বা কফি ব্যবহার করতে পারেন। এটি মেহেদির রং আরও গাঢ় করবে। ৫। সময় দিন: মেহেদি লাগিয়ে সাথে সাথে চুল ধুয়ে ফেলবেন না। কমপক্ষে ২ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এতে মেহেদির রং চুলে ভালভাবে বসবে। তাই হাতে সময় নিয়ে চুলে মেহেদি লাগান। ৬। চুল রুক্ষ করে তোলে: অনেকেই বলে মেহেদি চুল রুক্ষ করে থাকে। হ্যাঁ আপনার মাথার তালু রুক্ষ হলে মেহেদি চুল রুক্ষ করে তুলবে। তাই মেহেদির প্যাকের সাথে তেল, টকদই ব্যবহার করুন। কিংবা মেহেদি লাগিয়ে শ্যাম্পু করে মাথায় তেল লাগান।

টিপস:
১। মেহেদির পেস্ট ঘন করার জন্য এতে চিনি ব্যবহার করুন।
২। যেদিন মেহেদি দিবেন তার আগের দিন চুলে তেল দিন। এতে করে মেহেদি লাগানোর পর চুল আর রুক্ষ হয়ে যাবে না।
৩। গাঢ় রং পাওয়ার জন্য ফ্রেশ মেহেদি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ২-৩ বার লাগানোর পর স্থায়ীভাবে চুল রং হবে।
৪। মেহেদির সাথে অতিরিক্ত উপাদান যোগ করবেন না। এটি চুলের উপকারের চেয়ে ক্ষতি করতে পারে বেশি।
৫। মেহেদি লাগানোর পর চুলে হেয়ার ক্যাপ ব্যবহার করুন। এতে চুল থেকে মেহেদি কাপড় বা গায়ে পড়বে না। চুলে মেহেদি লাগানোর উপকারিতা: তীব্র রোদ, ধুলোবালি ও ত্বকের ঘামের কারণে চুলে ভঙ্গুরতা তৈরি হয়। চুল উজ্জ্বলতা হারায়, সৃষ্টি হয় খুশকির। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি উপায় হল চুলে মেহেদি লাগানো। চুল পরিচর্চার এই পদ্ধতি ইদানিং বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। চুলে মেহেদি লাগানোর উপকারিতা গুলো হল: স্বাস্থ্যোজ্বল চুল পেতে: মাসে অন্তত দুই বার চুলে মেহেদি ব্যবহার করুন। এতে চুল হবে স্বাস্থ্যোজ্বল ও সুন্দর। চুল ফিরে পাবে হারানো জৌলুস। তবে তার জন্য মেহেদি শুধু পেস্ট করে লাগালেই হবে না। এজন্য বিশেষ একটি কৌশল অবলম্বন করতে হবে। আমলকি মেশানো পানিতে দুই ঘণ্টা মেহেদি পাতা ভিজিয়ে রেখে পিষে নিন। এবার মাথার তালুসহ চুলে লাগান। যদি প্যাকেটের গুঁড়ো মেহেদি ব্যবহার করতে চান, তবে তার সাথে আমলকির পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর দুই ঘণ্টা রেখে তারপর ব্যবহার করুন। কন্ডিশনার হিসেবে: কন্ডিশনার হিসেবে মেহেদির তুলনা নেই। মেহেদি চুলের ওপর একটি প্রতিরোধক স্তর তৈরি করে, যা চুলকে ভেঙ্গে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত ব্যবহারে চুল প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। এতে চুল হয় উজ্জ্বল ও দ্বিগুণ শক্তিশালী। কন্ডিশনার হিসেবে যদি মেহেদি ব্যবহার করতে চান, তবে চুলে শ্যাম্পু করার পর ব্যবহার করুন।কেন চুলে মেহেদি লাগাবেন?

খুশকি তাড়াতে: খুশকি তাড়াতে মেহেদি খুবই কার্যকর। দুই চা-চামচ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পিষে নিন। এবার সামান্য সরিষার তেল গরম করুন এবং সঙ্গে কয়েকটি মেহেদি পাতা দিন। তারপর তেল ঠাণ্ডা করে এর সঙ্গে মেথি পেস্ট মিশিয়ে নিন। এটি শ্যাম্পু করার আগে মাথার তালুতে লাগান। চুল রাঙাতে: কোনো ক্ষতি ছাড়াই চুল রাঙাতে চাইলে মেহেদির কোনো বিকল্প নেই। কারণ মেহেদিতে নেই ক্ষতিকারক অ্যামিনো এসিড। রাসায়নিকযুক্ত হেয়ার কালারে চুল পর্যাপ্ত আর্দ্রতা হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই চুল ভালো করে রাঙাতে দুই টেবিল চামচ শুকনো আমলকি, এক চা-চামচ ব্ল্যাক টি ও দুটি লবঙ্গ পানিতে মিশিয়ে সিদ্ধ করুন। পানি ভালো করে ঘুটে নিন। এর সঙ্গে মেহেদি পেস্ট মিশিয়ে নিন। কমপক্ষে দুই ঘণ্টা পর চুলে লাগান। মুহূর্তেই মিলবে রাঙা চুল।