বাড়িতে ওয়াশিং মেশিন ছাড়াই কম সময়ে কাপড় ধুয়ে নেয়ার কৌশল শিখে নিন

এই করোনাকালে পরিবারের সবার সুরক্ষার কথা ভেবে অনেকেই গৃহ পরিচারিকা বিদায় করেছেন! এমন অবস্থায় গৃহিণীদের কাজের চাপ সামলাতেই দম বেরিয়ে যাচ্ছে!
বিশেষ করে প্রতিদিনের কাপড় ধোয়ার জন্য বিশেষ ভোগান্তি পোহাতে হয় সবাইকেই। তবে চিন্তার কিছু নেই, সহজ কিছু কৌশলে আপনি কাপড় ধুয়ে নিতে পারবেন মুহূর্তেই। তবে জেনে নিন কৌশলগুলো-
জামা কাপড় উল্টো করে তা ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে রাখুন, এতে ময়লা জলদি উঠে যাবে।
কাপড় ধোয়ার সময় লিক্যুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন। খুব জলদি এটি কাপড় পরিষ্কার করে। এতে ফেনা কম হয় তাই দুই বার পানিতে ভালো করে ধুলেই কাপড় হয়ে ওঠে চকচকে।
প্রতিদিনই কাপড় ধুয়ে নিন। এতে বেশি কাপড় জমবে না।

গরমকাল তাই সুতির কাপড় পরুন ঘরে। কটনের কাপড় পরিষ্কার করাও বেশ সহজ।
কাপড় ধুয়ে পানি না চেপেই মেলে দিন এতে কাজ কমে। যেহেতু এখন গরমকাল তাই জলদি শুকিয়েও যাবে।
কাপড় কাচার ক্ষেত্রে মনে রাখবেন ফ্রেব্রিকের ধরণ কী?
ফেব্রিকটি যদি সুতির হয় তাহলে পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে ভিজিয়ে রেখে দিন। এরপর লবণ পানি থেকে তুলে তা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিন।
কিছু সুতির কাপড়ের কোয়ালিটি এমন হয় যে তা থেকে রং উঠতে পারে। সেজন্য কাপড় ধোয়ার সময়ে বেকিং সোডা ব্যবহার করুন।
সাদা পোশাক বা বিছানার চাদরের রং যদি হারিয়ে যায় তাহলে এক বালতি পানিতে আধা কাপ ভিনেগার মিশিয়ে তাতে দুই টেবিল চামচ মতো বেকিং সোডা দিয়ে দিন। এতে কাপড়ের রং ফিরবে।
অনেকে মনে করেন সুতির কাপড় অনেকক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে ভালো ধোয়া হয়। তবে জেনে রাখুন এই ধারণা কিন্তু একে বারে ভুল। এতে করে কিন্তু জামা-কাপড়ের সুতো নরম হয়ে যেতে পারে, ফলে সহজে ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আধা ঘণ্টার বেশি কোনো কাপড়ই ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে রাখবেন না।
ডিটারজেন্ট ব্যবহারের নিয়ম
ডিটারজেন্ট নির্বাচনের আগে যে বিষয়টি দেখে নেবেন, তা হলো ডিটারজেন্টটি ক্ষারযুক্ত কিনা। এতে জামা-কাপড়ের রং ফিকে হয়ে যেতে পারে।
মনে রাখবেন সব ডিটারজেন্ট কিন্তু এক রকমের হয় না। খুব ভালো হয় যদি মাল্টিপারপাস ডিটারজেন্ট কিনতে পারেন।
সেই সঙ্গে কতটুকু ডিটারজেন্ট দেবেন তার ওপরেও নির্ভর করে পোশাক কত ভালো পরিষ্কার হবে। অনেকসময়ে ডিটারজেন্টে ব্লিচ ব্যবহার করা হয়। এর ফলে তা বেশি ব্যবহার করলে জামাকাপড়ের রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়। কাপড় অনুযায়ী ডিটারজেন্ট নিন। যে রঙের পোশাক থেকে বেশি রং উঠতে পারে (যেমন- কালো, গাঢ় নীল, কালচে সবুজ), সেইসব পোশাক উল্টো করে নিয়ে তারপর কাচুন।
সিল্কের পোশাক পাউডার ডিটারজেন্ট-এর তুলনায় লিক্যুইড ডিটারজেন্টে ধোয়া ভালো। বা খুব ভালো হয় যদি মাইল্ড শ্যাম্পু জলে ভিজিয়ে রেখে ধুতে পারেন। তাহলে তাড়াতাড়ি ধোয়া যাবে।
যদি কাপড়ে দাগ লেগে থাকে, এমন কাপড় বেশিক্ষণ না রেখে সঙ্গে সঙ্গে কেচে নেয়াই ভালো। নইলে পরে দাগ বসে যেতে পারে।