আধঘন্টা পায়ে হেঁটে পড়াশোনা করা কলেজছা’ত্রী, চান্স পেয়েছেন মেডিকেলে

প্রতিদিন আধঘণ্টা রাস্তা পায়ে হেঁটে পরে আধঘণ্টা গাড়িতে করে কলেজে যেতেন। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে কাদা-জল পেরিয়ে যেতো হতো। তবুও ক’ষ্ট মনে হয়নি কখনো। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হবেন। সেই স্বপ্ন যেন পূরণ হতে চলেছে তার। মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বলছিলাম শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী তাসনিম ইবনাত এর কথা।

তাসনিমের বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজে’লার সিরাজনগর ইউনিয়নে। বাবা মায়ের একমাত্র আদরের মে’য়ে তিনি। পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি সব পরিক্ষাতেই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। সে স্বপ্ন যেনো এখন হাতের নাগালে। এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পেয়েছেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ। তার এমন সফলতায় উচ্ছ্বসিত তার পরিবার ও শিক্ষকরা।

তাসনিম জানান, ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। মহান আল্লাহ সেই সুযোগ আমাকে করে দিয়ে মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছি। এজন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন পড়াশোনা শেষ করে একজন মানবিক চিকিৎসক হতে পারি। চিকিৎসক হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে পারি। মানবতার সেবায় যেনো নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রাখতে পারি।

কলেজের প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া, বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, কম্পিটিশনে রেখেছেন মেধার সাক্ষর। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপুমনি এমপি’র কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করাসহ সবকিছু মিলিয়ে তার জীবনটা ছিলো অনেক সুন্দর। গ্রুপ লিডার ছিল কলেজ রেড ক্রিসেন্টে দলেরও।

বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ ২০১৯ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জাতীয় পযার্য়ে পুরস্কার পেয়েছে। সৃজনশীল মেধা অন্বেষণে বিভাগীয় পর্যায়ের গনিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়েও ২০১৯ সালে মেধা মেধাবী নির্বাচিত হয় তাসনিম। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ এ উপজে’লা পর্যায়ে ধরে রাখেন তার শ্রেষ্ঠত্ব। এছাড়াও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ বোটনি অলিম্পিয়াডের জাতীয় পযার্য়ে অংশগ্রহণ করে অষ্টম স্থান অধিকার করেন।

মহামা’রী করো’নার মধ্যে বাড়িতে বসেই নিয়েছেন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। ছোটবেলার সে লালিত স্বপ্নকে বাস্তব করার জন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তার পড়াশুনার জন্য কখনো চাপ দেয়নি তার পরিবার। নিজের ইচ্ছে মতো পড়েছেন সবসময়। তার পরিবার ও শিক্ষকরা সব সময় তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভা’রপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও তাসনিমের শিক্ষক প্রফেসর মোহাম্ম’দ মহসীন বলেন, তাসনিম ইবনাত মে’য়েটা বেশ মেধাবী, পিইসি, জেএসসি ও এসএসসিতে সব পরিক্ষাতেই জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে৷ তাসনিম মেডিকেলে ভর্তি চান্স পেয়েছে। তার ভালো ফলাফলের জন্য আম’রা আনন্দিত। এসময় তিনি তাসনিমকে অ’ভিনন্দন জানান।