মিরাজ ইস্যুতে ফিক্সিং ঘন্ধ পাচ্ছে বিসিবি

ঘরোয়া ক্রিকেটের জনপ্রিয় আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢালাও ফিক্সিং কিংবা স্পট ফিক্সিংয়ের সরাসরি অভিযোগ তোলেননি জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়কত্ব হারিয়ে দলটির সিইও ইয়াসির আলমের বিপক্ষে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন তিনি। তাকে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ায় হতাশ এবং ক্ষুব্ধ মিরাজ। আর এ কারণে তিনি চট্টগ্রামের দলটির ম্যানেজমেন্টের কারো কারো আচরণ সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেন। এক পর্যায়ে ‘মা অসুস্থ’ বলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের টিম হোটেল ছেড়ে ঢাকায় ফেরার কথাও জানিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু পরে পরশু রাতে খেলা শেষে বিষয়টির মীমাংসা হলেও আলোচনা থেমে নেই । চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত মিরাজকে নানাভাবে বুঝিয়ে দলের সঙ্গে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে গতকাল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে সেরা একাদশে থেকে খেলেছেন মিরাজ। চট্টগ্রামের ম্যানেজমেন্ট ও সিইওর বিপক্ষে নানা অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত মিরাজ দলের সঙ্গে থেকে গেলেও জল কিন্তু কম ঘোলা হয়নি। ফলে মিরাজ ইস্যুতে নড়েচড়ে বসতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)!
অনেকে মিরাজের অভিযোগ খুঁটিয়ে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়ার মূল কারণ কী? তা জানতে উৎসুক দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। সত্যিই কি স্পট ফিক্সিংয়ের কোনো ঘটনা ছিল? চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ম্যানেজমেন্টের কেউ কী এমন কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত? এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের মনে। ভক্তদের মতে যদি এমন কিছু থেকেই থাকে, তাহলে তার যথাযথ অনুসন্ধান জরুরি। দেশের ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন, বিপিএলের গায়ে কোনোরকম কালো দাগ লাগুক তা প্রত্যাশিত নয়। খোদ বিসিবি ও বিপিএল কর্তৃপক্ষেরই উচিৎ বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করা। আশার খবর হচ্ছে, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সোহেল এবং সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকও গতকাল তাই বললেন। তারা জানান বিসিবি পুরো ঘটনাটি আমলে নিয়েছে। অর্থাৎ বিপিএল কর্তৃপক্ষ ও বিসিবি সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করতে আগ্রহী। কাল বিকালে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শেখ সোহেল ও মল্লিক জানান, বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এবং বিপিএল র্কর্তপক্ষ পুরো ঘটনা জানতে মেহেদি হাসান মিরাজ ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসবেন। তাদের ডাকা হবে। দু’পক্ষের মতামত জানতে চাওয়া হবে। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ সোহেল সরাসরি জানান, ঘটনার তদন্ত ও শুনানি হবে। তিনি বলেন, ‘আসলে কালকে ( রোববার) আমরা ঘটনাটা শুনলাম। আমরা এটা নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছি, আমি ছিলাম, মল্লিক ভাই এবং বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন ভাইও ছিলেন। সবার সঙ্গে কথা বলার পরে আমরা যেটা দেখেছি- মিরাজেরও এখানে ভুল আছে, ম্যানেজমেন্টেরও ভুল আছে। দু’পক্ষই কিন্তু হিসেবে দোষি সাব্যস্ত হয়। মিরাজের মতো জাতীয় এবং উঁচু মানের ক্রিকেটার হয়ে টুর্নামেন্ট চলাকালীন এই ভূমিকাটা রাখা ঠিক হয়নি। তার আরও অপেক্ষা করা উচিত ছিল। যেহেতু আমরা বিসিবির কমিটি ছিলাম, সেখানে সে আমাদেরকে বিষয়টি জানিয়ে অপেক্ষা করতে পারতো। এখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিরও সমস্যা আছে, আমি তাদেরও ছাড় দেবো না। তাদের শুনানি হবে কয়েকদিনের মধ্যে। দু’পক্ষকে সঙ্গে নিয়েই আমরা শুনানি করবো। এখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিরও ধৈর্য্য ধরা উচিত ছিল। তারা দু’পক্ষই নিজেদের মাঝে আলোচনা করে একটা কিছু করতে পারতো। এত বড় পর্যায়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল না এটা।’
ইসমাইল হায়দার মল্লিক মনে করেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে অধিনায়ক বদলের প্রক্রিয়া আরও সম্মানের সঙ্গে করতে পারতো ফ্র্যাঞ্চাজিটি। তার কথায়, ‘প্রথম কথা হচ্ছে এখানে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল আচরণ পালন করতে হবে এবং সহনশীল হতে হবে। নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির দিকে আমরা আঙুল তুলবো না। আমরা আগে দুই পক্ষের কথা শুনবো, তারপর সিদ্ধান্ত নেব। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সিও (ইয়াসির আলম) যদি মিরাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ না দেখায়, তাহলে অবশ্যই তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। মিরাজ জাতীয় দলের খেলোয়াড়, তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’