ইসলাম ধর্ম গ্রহণ , আফগানিস্তানে ফিরতে চান, তালেবানের হাতে বন্দী সেই শিক্ষক

২০১৬ সালে তার আমেরিকান সহকর্মীর সাথে আফগানিস্তানে অপহৃত হয়েছিলেন ৫৪ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষক টিমোথি উইকস। বর্তমানে আবার তিনি আফগানিস্তানে ফিরে তালেবানের অধীনে জনগণের সেবা করার ইচ্ছা পোষণ করছেন।

আফগানিস্তানের চার-দশক-ব্যাপী সংঘাতে দীর্ঘতম বন্দী, তিনি তিন তালেবান নেতার বিনিময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অদলবদল হওয়ার আগে তার আমেরিকান সহকর্মীর সাথে তালেবান হেফাজতে ১ হাজার ১৯২ দিন (তিন বছরেরও বেশি) কাটিয়েছেন।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ান ওই শিক্ষক জানান, তালেবানের হাতে বন্দী হওয়ার দ্বিতীয় বছরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। নিজের নাম বদলে রাখেন জিবরাইল ওমর। তিনি এখন আফগানিস্তানে তালেবান প্রশাসনের অধীনে একটি দাতব্য সংস্থা স্থাপন করতে চান। শিক্ষাপ্রচারে সহায়তা করতে চান।

পাশাপাশি তিনি আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়কে তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করছেন। যারা তালেবানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি শিখদের সাথে অন্তর্বর্তী তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সাথে বৈঠকের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

শুধু তাই নয়, আফগানিস্তানের জন্য একটি দাতব্য সংস্থা স্থাপনের জন্য তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা সাবেক আফগান সংসদ সদস্য সুনা বারাকজাইকের সাথে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন। তালেবানের সাথে সম্পৃক্ত হতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পূর্ব তিমুরে শাসক হওয়া গেরিলাদের যেমন কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছিল, তেমনি তালেবানকে কিছুটা সময় দেওয়া হোক।

২০১৬ সালের ৯ আগস্ট ভার্সিটি থেকে বাসায় ফেরার পথে তিনি অপহৃত হন। তিন বছর বন্দী থাকার পর ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর দুই তালেবান নেতার বিনিময়ে দক্ষিণ আফগান প্রদেশ জাবুলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। সে সময় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে যোগাযোগ রাখার অনুরোধ করেছিল তালেবান।

প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে জিবরাইল ওমর তালেবানের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। বন্দী জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সম্ভবত গজনি প্রদেশে তার বন্দিত্বের দ্বিতীয় বছর, তিনি কেন বেঁচে আছেন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেছিলেন।

তার ভাষায়, নির্জন কারাগারে আমি ভাবছিলাম, কেউ একজন আছেন যিনি আমাকে বাঁচিয়ে রাখছেন। সে সময় একজন তালেবান প্রহরী ওমর তার সাথে খুব ভাল আচরণ করে এবং ইংরেজি ভাষায় ইসলামের উপর বেশ কয়েকটি বই দিয়ে যায়। পরে আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হই এবং দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে শুরু করি।

জিবরাইল ওমর যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিস্তিন, আজারবাইজান, হংকং এবং তিমুর লেস্টে শিক্ষকতা করেছেন প্রায় ২০ বছর। তিনি এখন তালেবান হেফাজতে তার বন্দী জীবন নিয়ে একটি বইয়ের লিখছেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে এটি শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

জিবরাঈল ওমর বলেন, মুক্তির পর অস্ট্রেলিয়ায় তার বাড়িতে ইসলাম গ্রহণের জন্য তাকে অভিযোগের পাল্লায় দাঁড় করানো হয়ে। পরিবারের সদস্যরা মনে করত, আমি পাগল হয়ে গেছি। পরিবারের অর্ধেকেরই বিশ্বাস ছিল, তালেবানের বন্দিদশায় থাকার ফলে আমার স্টকহোম সিন্ড্রোম আছে।

তবে পরিস্থিতি এখন কিছুটা পাল্টেছে।

তার অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট দেখিয়ে, যেখানে তিনি তার নাম পরিবর্তন করে বার মুআদ জিবরাইল রেখেছেন, তিনি বলেছিলেন যে, তিনি জনগণকে সাহায্য করার জন্য তিন মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে ফিরে যাবেন। ‘আমি তাদের সম্মান করি কারণ তারা এর প্রাপ্য,’ তিনি আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছেন। সূত্র: ট্রিবিউন।