এবার বলিউড সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হিরো আলম

বগুড়ার ছেলে আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম। যাকে নিয়ে আলোচনা করা যায়, কিন্তু তাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আলোচনা-সমালোচনার তোয়াক্কা না করে আপন মনে কাজ করে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এফডিসিতে গিয়ে বারবার অপমানিত হয়েছেন হিরো আলম। আর সেই কষ্টে সিনেমার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ঠিক তার একদিন পরই জানিয়েছেন- দেশে নয়, এখন থেকে কলকাতায় সিনেমা বানাবেন।

upay
আরটিভি নিউজের সঙ্গে আলাপকালে হিরো আলম বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি বাংলাদেশের সিনেমা না করার ঘোষণা দিয়েছি। আর কখনও এফডিসিতেও যাব না। কিন্তু অভিনয় কিংবা নির্মাণের সঙ্গে না থাকতে পারলে আমি আসলে ভালো থাকতে পারব না। সিনেমা তো আমার ভালোবাসার জায়গা। এবার আমি কলকাতায় কিছু সিনেমা নির্মাণের চিন্তাভাবনা করেছি। বাংলাদেশে যেমন প্রযোজনা করেছি, হিরো হয়েছি, সেখানেও (টালিউড) আমিই প্রযোজনা করব এবং নায়ক হব। কলকাতার শিল্পীদের নিয়েই কাজ করব।’

কলকাতায় কাজের বিষয়ে কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন, ‘কলকাতায় আমি প্রচুর স্টেজ শো করতে গিয়েছি। সেখানে গিয়েই অনেক পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। আপাতত, গল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে এ মাসেই কলকাতায় যাব।’

দুই বছর আগে বলিউড সিনেমা ‘বিজু দ্য হিরো’-তে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন হিরো আলম। তিনি আরটিভি নিউজকে জানান, ‘দুই বছর আগে আমি বলিউড সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ করা হয়নি।’বলিউড সিনেমায় নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে আমি অভিনয় করব। গ্রামের খুব সাধারণ একটি ছেলের কষ্টের জীবন নিয়েই সিনেমার গল্প। এই সিনেমায় আমাকে একজন দুধওয়ালার ছেলের চরিত্রে দেখা যাবে।’

অভিনয়ের পর গানের জগতে প্রবেশ করেছেন হিরো আলম। ক’দিন পর পরই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে নতুন নতুন গান প্রকাশ করেন তিনি। যা কি না ঘণ্টা পেরুতেই লাখ লাখ ভিউ হচ্ছে। বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, চীনা, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষার গান উপহার দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল গানগুলো কাভার করতে দেখা যায় তাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি কোনো গায়ক নয়, শখের বসে গান করি। মূলত বাড়তি বিনোদন দিতেই আমি গান করি। সম্প্রতি তিনটি সিনেমার কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম তাই গানের পেছনে সময় দিতে পারিনি। মানুষ যেহেতু আমার গান ভালোবাসে, তাই প্রতি মাসে দর্শকদের অন্তত একটি করে গান উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।’

নিজের জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে হিরো আলম বলেন, ‘কোন সাইটে হিরো আলম নেই? আমার ফ্যান-ফলোয়ার কত আছে সেটা আপনারা সোশ্যাল মিডিয়ায় গেলেই দেখতে পারবেন। আমার প্রচুর ফ্যান ফলোয়ার, এটা তো আমি বললে হবে না। আপনারা নিজেরাই যাচাই করে দেখবেন।’

এদিকে এবারের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের আক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন হিরো আলম। তার ভাষ্যমতে, এবারের নির্বাচন খুবই দুঃখজনক। চলচ্চিত্রের জন্য এটা লজ্জাজনক। আর তাই গত ৩০ জানুয়ারি তিনি ১৭টি সংগঠনের নেতাদের আন্দোলনে যোগ দিতে এফডিসিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও তাকে অপমান করে বের করে দেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহীন সুমন।

এ প্রসঙ্গে হিরো আলম আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, ‘ওনার (শাহীন সুমন) মতো একজন পরিচালক আমাকে অপমান করেছেন, এটা খুবই দুঃখজনক। আমার কোনো অপরাধ থাকলে সেটা তিনি আমাকে জানাতে পারতেন। আমি ওখানে বিনা দাওয়াতে যাইনি। প্রযোজক সমিতির সদস্য হিসেবে আমাকে যেতে বলা হয়েছিল বলেই আমি গিয়েছিলাম। না হলে আমার তো সেখানে যাওয়ার দরকার ছিল না। উনাকে আমি ধিক্কার জানাই।’

তিনি যোগ করেন, ‘প্রযোজক সমিতির সভাপতিকে আমি বিষয়টি জানিয়েছি। তাকে অনুরোধ করেছি, এ বিষয়ে অবশ্যই আপনি ব্যবস্থা নেবেন। তিনি (সভাপতি) বিষয়টি দেখবেন বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে দু-চার দিনের মধ্যে একটি মিটিং বসার কথা।’

শিল্পী সমিতির নির্বাচন প্রসঙ্গে হিরো আলম বলেন, ‘এই নির্বাচন থেকে একটি বিষয় শিখলাম, শিল্পীদের অনেকেই কদর দিতে জানে না। কাদের নির্বাচিত করলে আমাদের শিল্পীদের জন্য ভালো হবে সেটা যদি তারা বুঝত, তাহলে অবশ্যই কদর করত। এক শ্রেণির লোক আছে যাদের কোনো কাজ নেই, সারাদিন এফডিসিতে আড্ডা দেয়। তাদেরকেই আবার নির্বাচিত করা হচ্ছে, যারা চলচ্চিত্রের ক্ষতি করবে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে আলাপকালে জাতীয় নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বগুড়া-৪ (কাহালু এবং নন্দীগ্রাম উপজেলা) থেকে অংশ নেবেন হিরো আলম। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। এর আগে দুইবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করেছি। আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েছি। এখন অভিজ্ঞতা বেড়েছে। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

সবশেষে হিরো আলম বলেন, ‘দর্শকদের ভালোবাসার কারণেই আজ আমি এতদূর আসতে পেরেছি। আপনারা যেভাবে আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন, ভবিষ্যতেও সেভাবেই পাশে থাকবেন। মানুষের যত বাধাই আসুক না কেন, আপনাদের ভালোবাসার শক্তি আমার সঙ্গে থাকলে কোনো বাধাই আমাকে আটকাতে পারবে না। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে ভালো ভালো কাজ করতে চাই।’