আবশেষে ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে ক্ষমা চাইলেন জায়েদ খান।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে জায়েদ খান তার পুরো প্যানেল নিয়ে জয়ী হতে পারেননি। তবে টানা তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন তিনি। জায়েদের প্যানেলের ১১ জন এবং ইলিয়াস কাঞ্চনের প্যানেল থেকে ১০ জন নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়েছে। তবে শুধুমাত্র নিজের প্যানেলের জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বাসায় উপস্থিত হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী জায়েদ খান। সেখানে ছিলেন না সভাপতি পদে জয় পাওয়া ইলিয়াস কাঞ্চনসহ তার প্যানেলের অন্য জয়ী প্রার্থীরা।

এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে বাদ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কারণে ক্ষমা চেয়েছেন সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। তবে সিনেপাড়ায় প্রশ্ন ওঠে, সভাপতি হিসেবে ইলিয়াস কাঞ্চনকে কি মেনে নিতে পারেননি জায়েদ খান? এতে জায়েদ ও কাঞ্চনের মধ্যে বিভেদটি যেন আরো স্পষ্ট হলো বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ। এবার সেই বিষয়ে বক্তব্য দিলেন জায়েদ খান। সভাপতিকে ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যাওয়াকে নিজের ভুল বলে স্বীকার করলেন তিনি।

বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) শিল্পী সমিতির এই দুই নেতা ইলিয়াস কাঞ্চন ও জায়েদ খানকে নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন অভিনেতা ও উপস্থাপন শাহরিয়ার নাজিম জয়। যা তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে শেয়ার করেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানে নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে ক্ষমা চান জায়েদ খান। এ সময় ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আসলে এখানে ভুলটা হয়েছে বলেই এই কনফিউশন তৈরি হয়েছে। বিষয়টা প্রথমে আমার নিজের কাছেও খারাপ লেগেছিল। কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো মনে করতে পারেন, আমি ইচ্ছা করেই যাইনি। একটা বিভক্তির দেখা তবে বিষয়টি তাদের ভুল। ওই সময় এটা করেছে।

জায়েদ খান বলেন, আমরা আসলে ওই সময় ওখানে ছিলাম। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়েছিলাম। মন্ত্রীকে আমরা বলেছি, আমরা এখন শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে আসিনি, এখানে ছিলাম, তাই আপনাকে সালাম করে গেলাম। আমরা শপথ গ্রহণের পর কাঞ্চন ভাইকে নিয়ে পুরো কমিটি আসব। একই কথা তথ্যমন্ত্রীকেও বলেছি আমরা। ইলিয়াস কাঞ্চনকে সহযোগিতা করার প্রশ্নে জায়েদ খান বলেন, কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে আমার গত দুই টার্মে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে।

তিনি আমাদের শিল্পী সমিতির দুইবারের উপদেষ্টা ছিলেন। যে কোনো ক্রাইসিসে তিনি এগিয়ে এসেছেন, আমাদের সঙ্গে কাজ করেছেন।করোনার সময় কেউ যখন ঘর থেকে বের হতে চাইতো না, তখন কাঞ্চন ভাই এসেছেন। তিনি বলেছেন- তোমাদের জন্য, চলচ্চিত্রের স্বার্থে এই মহামারির সময়ে বের হয়েছি।

এ চিত্রনায়ক আরো বলেন, কাঞ্চন ভাই মহাসড়কের যোদ্ধা। চলচ্চিত্রের সিনিয়রদের অন্যতম। তিনি এখন শিল্পী সমিতির অভিভাবক। আর ২১ জনের সরাসরি অভিভাবক। তার অভিজ্ঞতার আলোকে তার নির্দেশে আমরা চলচ্চিত্র ও শিল্পীদের উন্নয়নে কাজ করে যাব। এখন আর দুই প্যানেল, প্রতিদ্বন্দ্বী এসব কিছু নেই। এখন শিল্পীরা সবাই একটা পরিবার।

উল্লেখ্য, নানা অভিযোগ আর নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন শেষ হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দুই প্যানেলের বিভেদ যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রোববার বিকেলেই ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুন পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন নিপুণ। পাশাপাশি কিছু স্ক্রিনশট ফাঁস করা হয়। যেখানে ভোটে জায়েদ এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার যোগসাজশের বিষয়টি উঠে আসে। হয়েছে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনও।