বিশাল ঝড় সৃষ্টি করতে পারে ‘ঝড়কম্প’

এক্সক্লুসিভ কলাম ফিচার বাংলাদেশ

ভয়ঙ্কর দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্প। এবার এই দুটি দুর্যোগের মিশ্রণ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন আবিষ্কৃত দুর্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঝড়কম্প’।
সম্প্রতি জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার সাময়িকীতে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণা অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ের সময় সমুদ্রতলের ঝাঁকুনির কারণে সাড়ে তিন মাত্রার ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে। এর স্থায়িত্বকাল কয়েক দিন হতে পারে বলে জানান তারা। এই কম্পনগুলো প্রায়ই ঘটলেও এর আগে কারও নজরে আসেনি। এতদিন এই বিষয়টিকে ভূকম্পের পটভূমির সমস্যা হিসেবে মনে করা হতো।
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূকম্পনবিদ ওয়েনইওয়ান ফ্যান। তিনি বলেন, ঝড়কম্প একটি উদ্ভট বিষয়। তবে এটি এমন কিছু নয় যা আপনার ক্ষতি করতে পারে। কেন না ঘূর্ণিঝড়ের সময় কেউ সমুদ্রতলে দাঁড়িয়ে থাকে না।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্যান বলেন, এই বিষয়টি বাস্তব ও ভয়ঙ্কর হলেও জনসাধারণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ঝড়ের কারণে সমুদ্র দানবীয় ঢেউ সৃষ্টি হয়, যা আরেক ধরনের ঢেউ তৈরি করে। এই দ্বিতীয় ধরনের ঢেউগুলো পরবর্তীতে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সমুদ্রতলে আঘাত হানে। যার কারণে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। যেখানে বিশাল মহাদেশীয় ঢাল ও অগভীর সমতল ভূমি আছে সেখানেই শুধুমাত্র এটি হয়।
উল্লেখ্য, গবেষক দল ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেক্সিকো উপসাগর ও ফ্লোরিডা উপকূল, নিউ ইংল্যান্ড, নোভা স্কটিয়া, নিউফাউন্ডল্যান্ড, ল্যাব্রাডোর ও ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় ১৪ হাজার ৭৭টি ঝড়কম্প পেয়েছে। এছাড়াও, ২০০৮ সালের ঘূর্ণিঘড় ইক এবং ২০১১ সালের ঘূর্ণিঝড় আইরিনের ফলে অনেকগুলো ঝড়কম্প সৃষ্টি হয় বলে গবেষণাটিতে বলা হয়েছে।
collected: The Bangladesh Today