গেইল রান না করলে কি দলের জন্য ‘বোঝা’ হয়ে যান

সত্যিই কি ক্রিস গেইলের নামের পাশে ফুলস্টপ পড়ার সময় চলে এলো! নয়তো ওমন কথা তাকে নিয়ে বলা স্রেফ দুঃসাহস! গেইল রান না করলে কি দলের জন্য ‘বোঝা’ হয়ে যান?

সিলেটের নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামে ফরচুন বরিশালের ব্যাটিং পরামর্শক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে এমনটা জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিপিএলে ৫ ম্যাচে মাত্র ১১৭ রান, গেইলের এমন পারফরম্যান্সের পর প্রশ্নটির জবাবে প্রত্যাশিত উত্তরই মিলেছে, ‘সত্যি বলতে… হ্যাঁ হতে পারে (দলের জন্য বোঝা)। কারণ ও যদি রান না করে, ওর কাছ থেকে এরপর কিছু পাওয়ার থাকে না।’ ফিল্ডিংটাও যে তার নড়বড়ে, তা বলতে দ্বিধাবোধ নেই সাকিবদের গুরুর, ‘ফিল্ডিংয়ে ওকে কিছুটা লুকিয়ে রাখতে হয়।’

গেইলের বর্তমান ফর্ম, বয়স, শারীরিক ক্ষমতা লুকানোর কিছু নেই। ২২ গজ শাসন করা এই ক্রিকেটারকেও একটা সময় থামতে হবে। টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা যে আইপিএলে বোলারদের রাতের ঘুম হারাম করে দিতেন সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কারণটাও অজানা নয়, বিশ্বের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে গেইল এখন অচল! তাকে নিয়ে আগ্রহ নেই কোনো দলের। তবুও মার্কেট কিছুটা টিকে আছেন তার নামের কারণেই। যেমনটা বিপিএলে।

একবার ক্রিজে থিতু হয়ে গেলে প্রতিপক্ষকে এলোমেলো করে দিতে পারেন, সেই রেকর্ড তো আছেই। ২০১৩ সালে রোড টু ফাইনাল ম্যাচ খেলতে এসে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে ৩৬ বলে ৫০ রান করেছিলেন। আর পরের ১০ বলেই সেঞ্চুরি। ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়েও তার ব্যাটে ছিল ছক্কা বৃষ্টি। ফাইনাল ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে ১৮ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। ৩৩ বলে পেয়েছিলেন ফিফটি। আর সেঞ্চুরি পেয়ে যান পরের ২৪ বলে।

গেইলের আলো ঝলমলে তেমন দিনের অপেক্ষায় বরিশাল, নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘আমার মনে হয় এখনো ওর ওই ক্ষমতা আছে, পাঁচ ওভারের মধ্যে খেলাটাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার। সেই সামর্থ্য আছে। সেজন্য আমরা এখনো তার ওপর বিশ্বাসটা রাখছি এবং ওই জায়গাটা ওকে ছেড়ে দিয়েছি যেন পুরোপুরি মনোযোগী হতে পারে ওখানে। ওর জায়গা নিয়ে যেন চিন্তা করতে না হয়। আমরা আশা করছি যত সময় যাবে ও আস্তে আস্তে নিজেকে মানিয়ে নিবে এবং ভালো করবে।’

তবে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনুশীলনে ঘাম ঝরাতে হয়। ফিটনেস ট্রেনিংয়ে মনোযোগী হতে হয়। অথচ সেদিকে নজরই নেই গেইল কিংবা বরিশালের। ঢাকায় পা রাখার পর তাকে অনুশীলনে পাওয়া যায়নি একদিনও। ব্যাটিংয়ে নামার আগে টুকটাক নকিং একমাত্র ভরসা। এতে দলীয় শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটে না বলেই দাবি করলেন নাজমুল আবেদীন।

সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ওরা যেখান থেকে আসছে ওই জায়গার সংস্কৃতিটা বোধহয় এমনই। ওরা খেলাটাকে এভাবে দেখে বা নেয়, এজন্য আমরা মানিয়ে নিয়েছি। ওটা (গেইলের অনুশীলনে অনুপস্থিতি) যেন দলের পারফরম্যান্স বা দলের শৃঙ্খলায় কোনো প্রভাব না ফেলতে পারে সেদিকে আমাদের চোখ আছে। কিন্তু আর যারা আছে তারা সবাই খুবই মনোযোগী, সবাই যে যার কাজটা করছে। ওরা এভাবেই চলে বোধহয়।’

ক্রিকেটে প্রচলিত প্রবাদ আছে- ‘গেইলের পার্টি মুড যেদিন অন, বাকিদের অফ হয়ে যায়।’ বরিশাল কি সেই দিনটি দেখতে পাবে? সময়ের কাছেই সেই প্রশ্নটা তোলা থাক।