খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে পর’কীয়ায় বাধা পেয়ে রেশমা আক্তার স্বামীকে হ’ত্যা


খুলনায় ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান সবুজ (৪৩) হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. সাগরকে(২৮) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। মূলত স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় সবুজকে। আর এ পরিকল্পনা করে স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৩) নিজেই। যা সে বাস্তবায়ন করে তার ভাই (নিহতের শ্যালক) সাগরকে (২৮) দিয়ে। চাঞ্চল্যকর সবুজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. সাগর র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এসব তথ্য স্বীকার করেছে।

শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে র‌্যাব-৬-এর একটি দল খাগড়াছড়ি থেকে গ্রেফতার করে। রবিবার দুপুরে র‌্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ব্রিফিং করেন স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সারোয়ার হোসাইন। সবুজ হত্যাকাণ্ডে নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে মো. সাগর ওরফে জসিম হাওলাদার।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট সারোয়ার হোসাইন জানান, সবুজ হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রীর পরিকল্পনায় শ্যালক সাগরসহ ছয় জন অংশ নেয়। বাকিরা সাগরের বন্ধু। স্পটে তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ি ছিল না। ঘটনার পর সাগর পালিয়ে খাগড়াছড়িতে চলে যায়। এ মামলার ছায়া তদন্তে র‌্যাব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে সাগরকে গ্রেফতার করে।


তিনি আরো জানান, গত ৩০ জানুয়ারি রাতে নগরীর মিয়াপাড়া নতুন রাস্তা পাইপের মোড় এলাকায় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় সবুজকে। ঐ ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ স্ত্রী রেশমা আক্তার ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগমসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। সাগরসহ ছয় জন মিলে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সবুজকে।

চার বছর আগে রেশমার সঙ্গে তার ছেলে সবুজের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর যেতে না যেতে রেশমা তার খালাতো ভাই আব্দুল্লাহর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সবুজ ও রেশমার পরিবারে অশান্িতর সৃষ্টি হয়, ঝগড়াঝাটি চলতে থাকে। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী রেশমার পরিকল্পনায় সেদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সাগর ও তার সহযোগীরা সবুজকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সবুজ টু্যরিস্ট গাইডের কাজ করতেন। চার বছর আগে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে রেশমার সঙ্গে একই এলাকার চান মিয়ার ছেলে সবুজের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী রেশমা তার সঙ্গে ভালো আচরণ করত না। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৩১ জানুয়ারি নিহত সবুজের মা হোসনেয়ারা বেগম বাদী হয়ে সবুজের শ্বশুর, শাশুড়ি, স্ত্রী ও শ্যালকসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে খুলনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে মিজানুর রহমান সবুজ হত্যাকাণ্ডে নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে মো. সাগর ওরফে জসিম হাওলাদার। রবিবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. আল আমিন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলা থেকে সাগরকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৬।

এর আগে এ মামলায় গত ৩০ জানুয়ারি পুলিশ নিহতের শাশুড়ি নাসিমা বেগম ও স্ত্রী রেশমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছিল।