চুয়াডাঙ্গায় করোনার টিকা নিতে গিয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ, যুবক গ্রেফতার


চুয়াডাঙ্গায় করোনার টিকা নিতে গিয়ে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে আকাশ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গতকাল বুধবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে অপহরণে শিকার স্কুল ছাত্রীর বাবা হোসেন আলী বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করলে রাতেই পুলিশ আকাশ হোসেনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আকাশ সদর উপজেলার কুকিয়াচাঁদপুর গ্রামের মিলন হোসেনের ছেলে।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামের হোসেন আলীর কুঁকিয়াচাঁদপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে সহপাঠীদের সাথে চুয়াডাঙ্গা ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি রওনা দেয়। এসময় গ্রামের বেলেমাঠ নামক স্থানে পৌঁছুলে তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায় আকাশ হোসেন ও তার বন্ধুরা। মেয়েকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বুধবার বিকেলে আকাশকে প্রধান আসামীসহ আরও চারজনের নাম উল্লেখ করে দর্শনায় একটি মামলা দায়ের করেন মেয়েটির বাবা। মামলার অন্য আসামীরা হলেন- কুঁকিয়াচাঁদপুর গ্রামের মিলন হোসেনের ছেলে বিদ্যুত হোসেন (২৭), একই গ্রামের মঙ্গল আলীর ছেলে ফরজ আলী (৩৫), তালেব হোসেনের ছেলে সুজন আলী (২৫) ও দীননাথপুর গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে কালাম মিয়া (২৭)।

অপহরণের শিকার মেয়েটির বাবা জানান, এর আগেও আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়া আসার পথে আকাশ তার বন্ধুবান্ধব নিয়ে উত্ত্যক্ত করতো। নানা ধরণের কুপ্রস্তাব দিতো। বিষয়টি আমি আকাশের পরিবারকে অবগত করেও কোনো লাভ হয়নি।

গ্রেফতারকৃত আকাশের বাবা মিলন হোসেন জানান, আমার ছেলে আকাশের সাথে ওই মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সে স্বেচ্ছায় আকাশের কাছে এসেছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম লুৎফুল কবীর বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় মেয়েটিকে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে গ্রেফতারকৃত আকাশকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তিনি আরো জানান, মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতের বিচারকের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করানো হয়েছে।