৩০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে কচ্ছপ বাটাগুর বাসকা এখন শরণখোলায়


বিলুপ্ত প্রজাতির মিঠা পানির কচ্ছপ বাটাগুর বাসকা ভারত থেকে প্রায় ৩০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের সুন্দরবন তীরবর্তী বলেশ্বর নদে অবস্থান করছে। গত ১৯ জানুয়ারী ভারতীয় ভূখন্ডের সুন্দরবনের চানতা নামক স্থান থেকে অবমুক্ত করার পর ২০ দিনের দীর্ঘ পথচলা শেষে সুন্দরবন উপকুলীয় বাগেরহাটের শরনখোলার বলেশ্বর নদে এসে পৌছায়।

কচ্ছপটির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার (জিপিএস) ট্রাকিং বসিয়ে এর গতিবিধি ও অবস্থান নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা।

ভারতীয় টাইগার রিজার্ভ প্রজেক্ট পরিচালিত গবেষনা প্রকল্পের রিসার্চ এ্যাসিস্ট্যান্ট ফিল্ড ডিরেক্টর সৌমেন মন্ডল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষনা সংস্থা টার্টল সারভাইবাল এলায়েন্স (টিএসএ) বিলুপ্ত প্রজাতির প্রানী নিয়ে গবেষনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন বিভাগ বাটাগুর বাসকা সংরক্ষন ও এদের জীবন প্রনালী সম্পর্কে গবেষনার উদ্দেশ্যে ৮/১০ কেজি ওজনের ১০ টি কচ্ছপ একযোগে অবমুক্ত করা হয়।

গত ১৯ জানুয়ারী ভারতের চানতা নামক স্থান থেকে মিঠা পানির বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপগুলি ছেড়ে দেয়ার পর দুটি কচ্ছপ বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে এবং একটি কচ্ছপ বঙ্গোপসাগরের ফেয়ার বয়া এলাকায় পৌছানোর পর জিপিএস সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে, অপর কচ্ছপটি সুন্দরবনের পথ ধরে শরনখোলার বলেশ্বর নদে চলে আসে। কচ্ছপটির পিঠে স্থাপন করা জিপিএস ডিভাইসের সাথে (৬২৯৬০৫২৪) মোবাইল নম্বর যুক্ত আছে। জেলেদের জালে এটি ধরা পড়লে এর ক্ষতি না করে উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি।

পুর্ব সুন্দরবন বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সামসুল আরেফিন মোবাইল নম্বর ও জিপিএস সংযুক্ত কচ্ছপটি কারো হাতে পড়লে বন বিভাগকে অবহিত করার অনুরোধ জানান। এছাড়া জেলেদেরকে সতর্কতার সাথে নদীতে জাল ফেলার অনুরোধ জানান।