নির্বাচন কমিশনের (ইস) ২৭ কর্মকর্তাকে বদলি


কেএম নূরুল হুদা কমিশন বিদায় নেওয়ায় নতুন কমিশনের অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন ভবন। বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) শূন্য রয়েছে ভবনটি। নতুন কমিশনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের কক্ষগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। এদিকে ইসির ১৮ কর্মকর্তাকে বদলি করা হরেয়ছে তাদের ২ দিনের মধ্যে কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কে এম নূরুল হুদা কমিশনের বিদায়ের দিন গত সোমবার এবং গতকাল মঙ্গলবার এসব বদলি আদেশ দিয়েছেন জানা গেছে। মঙ্গলবার যেসব বদলি আদেশগুলো হয়েছে সেগুলোই সোমবারের সিদ্ধান্ত ছিল। তবে আদেশ জারি একদিন পরে হয়েছে। এদিকে কমিশনারদের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে ইসি সচিবালয় গত সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত অফিস করেছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী কে এম নূরুল হুদা কমিশন গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অফিস করে দুই শতাধিক ফাইলে স্বাক্ষর করেন এর বেশির ভাগই ইউনিয়ন পরিষদের গেজেট প্রকাশ সংক্রান্ত। এছাড়া নির্বাচন কর্মকর্তাদের বদলি, ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গণনা, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম সংরক্ষণ, ইসির কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন সংক্রান্ত ফাইলও রয়েছে। অফিস শেষ করে সন্ধ্যার পরে তারা আনুষ্ঠানিক বিদায় গ্রহণ করেন। পরে ডিনার করে বেশ রাতে বাসায় চলে যান।

ইসির যেসব কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন তাদের মধ্যে যশোরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বগুড়ায়, কুষ্টিয়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা যশোরে, সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা কুষ্টিয়ায়, নাটোরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ইসি সচিবালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব, দিনাজপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাটোরে, ভোলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাদারীপুরে, পটুয়াখালীর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোলায়, মাদারীপুরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, নরসিংদীর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নোয়াখালীতে, নোয়াখালীর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নরসিংদীতে, বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাতক্ষীরায়, বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বাগেরহাটে, সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রয়েছেন। আদেশে ইসি সচিবালয়ের ৫ জন ব্যক্তিগত কর্মকর্তার দফতর বদল হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আজ বুধবার কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আগামীকাল বৃগস্পতিবার তারা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ডরিলিজ) হবেন বলে আদেশে বলা হয়েছে।

গতকাল নতুন নির্বাচন কমিশনারদের অপেক্ষায় রয়েছে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন। কেএম নূরুল হুদা কমিশন চলে যাওয়ার পরপরই দরজার পাশে লাগানো তাদের নামফলক তুলে ফেলা হয়েছে। রুমগুলো রঙ করা ছাড়াও আসবাবপত্র ঘষামাজা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) শূন্য রয়েছে ভবনটি।
এদিকে কমিশন বিহীন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রথম দিনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর কাজের চাপ অনেকটাই কম ছিল। নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে এখতিয়ার শুধুমাত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বলে এখন কর্মকর্তারা দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ করছেন। গত সোমবার মেয়াদের পাঁচ বছর পূর্ণ করে বিদায় নেয় কেএম নূরুল হুদা কমিশন। বিদায়ী সংবদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে নিজের কোনো ব্যর্থতা নেই। নূরুল হুদা বলেন, গত পাঁচ বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সবগুলো নির্বাচন শেষ করা। আমরা নির্বাচনগুলো শেষ করতে পেরেছি। এটি বড় সফলতা।

সাবেক সিইসির একান্ত সচিব একেএম মাজহারুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, নতুন কমিশনারদের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এজন্য রুমগুলো নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। ঘষামাজা করা হচ্ছে আসবাবপত্র। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে বেশি সময় লাগলেও আইনের ব্যত্যয় হবে না। এই সময় সচিব সাচিবিক দায়িত্বপালন করবেন বলে এর আগে জানান আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল হক।

বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন কমিশন গঠিত না হলে আইনের ব্যত্যয় ঘটবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানে কিংবা আইনে এ ধরনের কোনো শূন্যতার কথা নেই। এই কমিশনের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে এবং তারপরও যদি নির্বাচন কমিশন গঠন করতে একটু বিলম্ব হয়, তা আইনে শূন্যতা হিসেবে গণ্য হবে না।

জানা যায়, নতুন কমিশন না আসা পর্যন্ত সচিব শুধু দাপ্তারিক কাজগুলো করতে পারবেন। আর কমিশনারদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় এমন কাজগুলো কমিশন গঠনের পর করা হবে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২ জন ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২ অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আইন অনুযায়ী কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ পেশ করতে হবে।

নতুন ইসি গঠনে গত শনিবার প্রথম দফায় বেলা সোয়া ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিশিষ্টজনদের মতামত নেয় সার্চ কমিটি। বিশিষ্টজনদের মতামত নিতে পরের দিন গত রোববার বিকেলেও বৈঠক করেন। দু’দিনের সভায় অধ্যাপক, গণমাধ্যমের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি, সরকারি সাবেক কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এসব বৈঠকে সার্চ কমিটির কাছে আসা ৩২২টি নাম প্রকাশ করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসব নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া গতকাল বিশিষ্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন সার্চ কমিটি।