এক ডিম থেকেই তৈরি করলেন সুন্দর একটি মসজিদ!


লোক মুখে প্রচার পৃথিবীতে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বেঙ্গির মা নামে এক মহিলা। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’ প্রবাদ বাক্যটি যেমন সত্য তেমনি লক্ষ্য যদি থাকে আপনার অটুট একদিন সফলতা আসবেই। কবি গুর“ রবিদ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয় ‘ছোট ছোট বালু কণা, বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তুলে মাহাদেশ, সাগর অতল। এই কবিতাটুকু পড়লে মনে হয়। কবিগুরু কোন বাস্তব ঘটনা থেকেই কবিতাটি রচনা করেছিলেন। তেমনি আচার্য্য জনক এক ঘটনা ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এক মহিলা।

তাকে সবাই বেঙ্গির মা বলে ডাকলে ও একটি মহৎ উদ্দ্যোগ নিয়ে একটি ডিম থেকেই গড়ে তুলেছেন একটি মসজিদ। এলাকাবাসী নাম দিয়েছেন এক এন্ডার মসজিদ। মসজিদটির নাম এখন সবার মুখে। এক এন্ডা থেকে কিভাবে এক মসজিদ সে কথা শুনলে সবাই অবাক হন। মানুষের অসাধ্য কিছু নেই, মানুষ সাধনা করে আকাশে উড়েছে পৌঁছেছে চাঁদের দেশে। তেমনি এক বেঙ্গির মা বাংলাদেশে জন্ম দিয়েছে এক ইতিহাস। আর তার রেখে যাওয়া স্মৃতি দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ আসে বেঙ্গির এক এন্ডার (ডিম) মসজিদ দেখতে।

জানা যায় নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাথগঞ্জ ইউনিয়নের প্রজাতপুর গ্রামের তৎকালীন এক কৃষক সরফ উল্লার স্ত্রী বেঙ্গির মা ১৯০২ ইং, ১৩০৭ বাংলায় প্রজাতপুর ও লালপুর দুটি গ্রামের মাধ্যবর্তী স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের শেষে এলাকাবাসীকে জড়িত করে মসজিদটির নামকরণ করেন ‘এক এন্ডা (ডিম)র মসজিদ’। তখন মসজিদের নামকরণ নিয়ে জনতার
মধ্যে প্রশ্ন জাগলে তিনি ঘটনাটি খুলে বলেন।

বেঙ্গির মা এলাকাবাসীকে জানান তিনি একটি মুরগীর ডিম মসজিদের নামে মানত করে রাখেন। ঐ ডিমটি থেকে মুরগীর উতলে দিলে তা থেকে একটি বাচ্চার জন্ম হয়। পরবর্তীতে ঐ বাচ্চাটি বড় হলে তা থেকে আরো ৭টি ডিম হয়। পরবর্তীতে ঐ ৭টি ডিম থেকে ৭টি বাচ্চার জন্ম হয়। এভাবে এক পর্যায়ে মুরগীর খামাড় গড়ে তুলেন। ঐ খামাড়ের মুরগী বিক্রি করে বেঙ্গির মা টাকা জমাতে থাকেন। তৎকালীন সময়ে তিনি এক লক্ষ টাকা জমা করে মসজিদটি তার স্বামীর মাধ্যমে নির্মাণ করে দেন।

বেঙ্গির মা ছিলেন নিঃসন্তান। ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরে মসজিদটির নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। মসজিদ নির্মাণের শত বছর অতিবাহিত হলেও এখন এ কাহিনী সবার মুখে মুখে। অনেকই মনে করেন একটি এন্ডা (ডিম) থেকে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘটনা ইতিহাসে এই প্রথম। তাও আবার একজন মহিলা কর্তৃক মসজিদ নির্মাণ সবাইকে অবাক করেছে। প্রজাতপুর ও লালপুর গ্রামবাসী
২০০৯ সালে মসজিদটির বর্ধিত অংশ সংস্কার করেছেন। কিন্তু বেঙ্গির মার মুল মসজিদটি এখনও বিদ্যমান রয়েছে। চলতি বছরে মসজিদটি নতুন করে রং করা হয়েছে।

চাইলে মানুষ কিনা করতে পারে। তার ছেলে সন্তান না থাকলেও এই মসজিদটি পৃথিবী যতদিন থাকবে ততদিন স্বাক্ষী হয়ে রবে।
প্রজাতপুর গ্রামের রাকির হোসেন বলেন আমার পুর্ব পুরুষ নিঃসন্তান সরফ উল্লার স্ত্রী বেঙ্গির মা এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। আমি আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি পরিদাদী বেঙ্গির মা একটি এন্ডা থেকেই এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এলাকাবাসী কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করে মসজিদের সুন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য সংস্কার করেছেন। মসজিদের মোতাওয়াল্লী লন্ডন প্রবাসী আব্দুল হারিছ তিনি দেশের বাহিরে থাকায় থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি।

এলাকার প্রবীণ জাফর উল্লা বলেন, আমাদের গ্রামের বেঙ্গির মা এমন একটি কাজ করেছেন, যা সারাজীবনেও ভুলার মত নয়। আমি বেঙ্গির মার কাছ -থেকে শুনেছিলাম তিনি একটি ডিম থেকে একটি মুরগীর খামাড় গড়ে তুলেছিলেন। ঐ খামাড়ের একটি টাকাও তার সংসারের কাজে ব্যয় করেন নি। সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করেন। মানুষটি (বেঙ্গির মা) মরে গেলেও এখনও সবাই তার কথা আলোচনা করে। এটা বিশ্বের নজীর হয়ে থাকবে।

তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন বাংলাদেশে কেন বিশ্বের কোথাও এক এন্ডা (ডিম) থেকে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘটনা আমি কখনও শুনিনি। আমার জানা মতে পৃথিবীতে এই প্রথম আমাদের গ্রামের এক এন্ডা থেকে মসজিদ হয়েছে। মসজিদটি পরিচালনায় কমিটিতে যারা রয়েছেন তারা হলেন, বেঙ্গির মার বংশধর রুপ উদ্দিন সভাপতি, লন্ডন প্রবাসী আব্দুল হারিছ মোতাওয়াল্লী, ব্যবসায়ী হেলিম উদ্দিন ক্যাশিয়ার সদস্য রাকিল হোসেন ও শামীনুর মিয়া প্রমুখ। কমিটির একাধিক সদস্যের মতে বেঙ্গির মার এক এন্ডার মসজিদটি পর্যটকদের জন্য একটি আচার্য্যজনক স্থাপত্য হিসাবে সরকার রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব নেবেন।