পাকিস্তানে এহসাস প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা বিল গেটসের


মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও জনহিতৈষী বিল গেটস গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে তার প্রথম পাকিস্তান সফরের সময় দেখা করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গতকাল এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে রাশিয়ায় তার আসন্ন সফরের সময় দেশের ‘দ্রুত-ক্ষয়প্রাপ্ত’ স্থানীয় রিজার্ভের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে দুটি মেগা গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের এজেন্ডা হাতে নেবেন ইমরান খান।

গতকাল টুইটারে ইমরান খান ও বিল গেটসের বৈঠকের ছবি শেয়ার করে পাকিস্তানের সিনেটর ফয়সাল জাভেদ খান বলেন, গেটস ‘পাকিস্তানে (পোলিও নির্মূল সংক্রান্ত) পদক্ষেপ, কোভিড-১৯ মহামারি সংক্রান্ত ন্যাশনাল কমান্ড অ্যান্ড অপারেশন সেন্টারের (এনসিওসি) কর্মক্ষমতা এবং এহসাসের মতো উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।’

পরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গেটসের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই মধ্যাহ্নভোজের ছবিগুলো শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, মাইক্রোসফ্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রীর ‘বিশেষ আমন্ত্রণে’ দেশটি সফর করছেন। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি (এসএপিএম) ডক্টর ফয়সাল সুলতান পাকিস্তানে বিল গেটসের একদিনের সফরের কথা নিশ্চিত করেছেন। এক টুইট বার্তায় ফয়সাল সুলতান বিল গেটসকে পাকিস্তান সফরের জন্য স্বাগতম জানান।

রাশিয়া সফরে টার্গেট গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প : এদিকে, বেসামরিক এবং সামরিক নেতৃত্ব পাকিস্তান গ্যাস স্ট্রিম প্রকল্প এবং রাশিয়ার সাথে কাজাখস্তান প্রকল্প থেকে গ্যাস পাইপলাইন স্বাক্ষরের বিষয়টি একই পৃষ্ঠায় রেখেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। মস্কোর একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ইসলামাবাদে পাকিস্তান গ্যাস স্ট্রিম প্রকল্পের সাথে টোল-ফ্রি কার্যক্রম এবং কর ছাড়ের বিষয়ে আলোচনার করেছে। পাকিস্তানের নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সফরের সময় রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করতে চায়।

আরেকটি প্রকল্প যা এজেন্ডায় থাকতে পারে তা হল কাজাখস্তান থেকে গ্যাস পাইপলাইন। কর্মকর্তারা বলেছেন, রাশিয়া ইতোমধ্যে কাজাখস্তান থেকে একটি গ্যাস পাইপলাইন তৈরি করেছে যা আজারবাইজানের মধ্য দিয়ে যায়। রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম আফগানিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত প্রকল্পটি সম্পন্ন করেছে কিন্তু এখন এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হচ্ছে। গ্যাজপ্রম একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বেশি কোনো দেশে গ্যাস রপ্তানি করতে পারে না।

তারা যোগ করেছে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে অনুমোদিত পরিমাণ পাকিস্তানের জন্য যথেষ্ট হবে। এমনকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা সত্ত্বেও, গ্যাজপ্রম পাকিস্তানে ১৪-১৫ বিলিয়ন ঘনফুট রফতানি করতে পারে যা দেশটির গ্যাসের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট হবে। প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত রাশিয়ান কোম্পানি কাজাখস্তান থেকে পাকিস্তানে গ্যাস দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে, তারা সরাসরি কোম্পানির সাথে লেনদেন করবে না এবং রাশিয়ান সরকারের সাথে একটি চুক্তিতে আলোচনা করবে। কর্মকর্তারা বলেছেন যে, পাকিস্তান এই উদ্দেশ্যে রাশিয়ান সরকারকে চিঠি দিয়েছে এবং তারা এ পাইপলাইন থেকে গ্যাস নিতে প্রস্তুত। জ্বালানিমন্ত্রী হাম্মাদ আজহারও এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন যে, পাকিস্তান কাজাখস্তান থেকে গ্যাস পাইপলাইনের দিকে তাকিয়ে আছে।
বিশ্বে এলএনজির স্পট দাম স্থিতিশীল নেই। তাই সস্তা গ্যাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চায় পাকিস্তান। মন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানের দেশীয় গ্যাস সম্পদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, পাকিস্তানের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে দুটি পাইপলাইন দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে সস্তা দাম নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের উচিত স্থানীয় গ্যাস উৎপাদনের উপর একটি সীমাবদ্ধতা রাখা।

কাজাখস্তানের গ্যাস এবং তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান-ইন্ডিয়া (টিএপিআই) পাইপলাইন প্রকল্প পাকিস্তানের বর্তমান চাহিদা মেটাতে পারে যা এর শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি থেকে সস্তা হবে। পাকিস্তানও টিএপিআই গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প সম্পূর্ণ করতে এগিয়ে যাচ্ছে। টিএপিআই পাইপলাইন প্রকল্পের গ্যাসের দাম নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছিল।

তদুপরি, পাকিস্তান মনে করে যে, এলএনজি দেশের গ্যাস সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান নয়। বিভিন্ন দেশ তাদের গ্যাস সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে স্টপ গ্যাপ ব্যবস্থা হিসাবে এটি ব্যবহার করে। তাই, পাকিস্তান এখন তার ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে কাজাখস্তান থেকে গ্যাস পাইপলাইনের সাথে টিএপিআই পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে মনোনিবেশ করছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, টিএপিআই প্রকল্প দেশের গ্যাসের চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ করবে- যা পাকিস্তানে এলএনজি আমদানির তুলনায় সস্তা বলে মনে করা হয়। সূত্র : ট্রিবিউন, ডন।