আট বোনের ভ’য়ঙ্কর ইয়াবা সিন্ডিকেট হার মানিয়েছে হলিউডের থ্রিলার মুভিকেও


আট বোনের ভয়ঙ্কর ইয়াবা সিন্ডিকেট-এ যেন হলিউডের কোনো থ্রিলার মুভির চিত্রনাট্য! এক পরিবারের সবাই সম্পৃক্ত অপরাধের সাথে। যারা নিত্য নতুন কৌশলে অপরাধ করে থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এতোদিন রূপালী পর্দায় এমন কাহিনি দেখা গেলেও বাস্তবেও এমন একটি পরিবারের সন্ধান মিলেছে কক্সবাজারে।

যে পরিবারের আট বোনের সবাই মিলেই নিয়ন্ত্রণ করছে মাদকের আন্ডারওয়ার্ল্ড। কখনো পযর্টক, কখনো বা মেহেমান সেজে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবা পাচার করে আসছে। আগেও একাধিকবার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তল্লাশির মুখোমুখি হলেও নিখুঁত পাচার কৌশলের কারণে পার পেয়ে যায় প্রত্যেকবার। অবশেষে র‌্যাবের ফাঁদে আটকা পড়েন ইয়াবা পরিবারের তিন বোন।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব কর্মকর্তাদের শুনিয়েছেন ইয়াবার পাচারের হরেক রকম কাহিহি। যা শুনে ‘চক্ষু চড়ক গাছ’ হয়েছে র‌্যাব কর্তাদের। কক্সবাজার থেকে নতুন রুট ব্যবহার করে ইয়াবার পাচারের সময় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেজেলার হাটহাজারী উপজেলা থেকে তিন বোনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৭।

তারা হলেন-চক্রের মূল হোতা ফাতেমা বেগম মনু ও তার দুই বোন হালিমা বেগম এবং আসমাউল হুসনা। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, ‘অতীতে অনেক ইয়াবা কারবারিকে গ্রেফতার করা হলেও এরকম দুর্ধর্ষ পাচারকারী চক্র অতীতে গ্রেফতার হয়েছে বলে মনে হয় না। তারা নিত্য নতুন কৌশল এবং রুট ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার করছে। একই পরিবারের আট বোন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত! তাদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

জানা যায়, ২০১৯ সালের শুরুতে ইয়াবার ক্যারিয়ার হিসেবে মাদকের অন্ধকার জগতে নামেন কক্সবাজার জেলা সদরের ফাতেমা বেগম মনু। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নিজেই আর্বিভূত হন ইয়াবা কারবারি হিসেবে। ব্যবসা নির্বিঘ্ন করতে সাথে নেন নিজের অন্য সাত বোনকেও। গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল হিসেবে পাচারের সময় সাথে রাখেন শিশু সন্তানদের। গত দুই বছর ধরে তারা কচুরমুখী,

টমোটো, কুমড়ো, রান্না করা তরকারি ভেতর করে পাচার করতে থাকে ইয়াবা। চালান নিয়ে আট বোন কক্সবাজার থেকে এক সাথে রওয়ানা করলেও চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানিহাট থেকে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

এক গ্রুপ ফাঁশিয়াখাল-লামা-আলীকদম-বিলছড়ি-লোহাগাড়া রুট ইয়াবা পাচার করে করে। অন্য গ্রুপ কেরানিহাট-বান্দরবান-চন্দ্রঘোষা-রাঙ্গুনীয়া-হাটহাজারী রুট অনুসরণ করে চট্টগ্রাম নগরী ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচার করে। র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে সরাসরি না এসে ভেঙে ভেঙে চট্টগ্রামে আসতো ইয়াবা চক্রের সদস্যরা।

প্রশাসনের নজরদারী এড়াতে সাথে তারা ছোট বাচ্চাদেরও রাখতো। এর আগেও তল্লাশীর মুখে পড়লেও নিখুঁত কৌশলের কারণে পার পেয়ে যায়। তাই আট বোন এ চক্রের তথ্য অজানা থেকে যায়।’ বিডি-প্রতিদিন