‘প্রেমের টানে’ বাংলাদেশে এসে পুলিশের হাতে আটক হওয়া ভারতীয় এক কিশোরীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।


প্রেমের টানে অবৈধ পথে বাংলাদেশে এসে পুলিশের হাতে আটক হওয়া ভারতীয় এক কিশোরীকে (১৭) তার নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আজ শুক্রবার দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের পুরাতন বাজার-তেলীপাড়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক হয়। তখন ওই কিশোরীকে ভারতীয় পুলিশ ও তার মা–বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পতাকা বৈঠকে বিএসএফের হাফতিয়া ক্যাম্পের সহকারী কমান্ড্যান্ট কমল সিং, ভারতীয় গোয়ালপুকুর থানার পুলিশ সদস্য দিলীপ কুমার সরকার, বিজিবির তেঁতুলিয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আবদুল মোতালেব, তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার রায়, নুরুল হক, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাপলা ইয়াসমিনসহ বিজিবি-বিএসএফ, দুই দেশের পুলিশ সদস্যরা ও ওই কিশোরীর মা–বাবা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সরদারপাড়া এলাকার হাসিনুর রহমানের বাড়ি থেকে ভারতীয় ওই কিশোরীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে তেঁতুলিয়া মডেল থানা–পুলিশ। তাদের ধারণা, গত বুধবার গভীর রাতে তেঁতুলিয়া সীমান্তের অপর প্রান্তে ভারতের মুড়িখাওয়া এলাকা থেকে মহানন্দা নদী পার হয়ে ওই কিশোরী তেঁতুলিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছে এবং ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। ওই কিশোরী জানায়, ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপুকুর থানার হারিয়ানি এলাকায় তার বাড়ি।

ওই কিশোরীকে থানায় আটকের খবর পেয়ে তার প্রেমিক পরিচয় দিয়ে বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে তেঁতুলিয়া থানায় হাজির হন আবদুল লতিফ ওরফে রকিব (২১) নামের এক তরুণ। তিনি দাবি করেন, ওই কিশোরীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। তাঁর জন্যই মেয়েটি দেশ ছেড়ে এসেছে। কিশোরীটিকে নিয়ে যেতে কান্নাকাটি করতে থাকেন লতিফ। সারা রাত থানা চত্বরেই অবস্থান করেন তিনি। তাঁকে নজরদারিতে রাখে পুলিশ।
পালিয়ে আসা কিশোরী ও তার প্রেমিক দাবি করা তরুণের বরাতে পুলিশ জানান, কয়েক বছর আগে ভারতে গিয়ে কেরালা রাজ্যের একটি খাবারের হোটেলে কাজ নেন বাংলাদেশি তরুণ আবদুল লতিফ। সেখানেই ওই কিশোরীর বড় ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতেন তিনি। সেই সুবাদে ওই কিশোরীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এক বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ ছাড়া তিন মাস আগে তাঁরা ভারতে লুকিয়ে বিয়ে করেছিলেন বলেও দুজনই দাবি করেন। সম্প্রতি আবদুল লতিফ বাংলাদেশে চলে আসেন। এরপর তাঁর টানেই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে ওই কিশোরী।

তেঁতুলিয়া থানার এসআই তপন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা দুজনই ভারতে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করলেও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ ছাড়া দুজনের কেউই কোনো পাসপোর্ট-ভিসা দেখাতে পারেননি। মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিজিবির সঙ্গে কথা বলে বিএসএফের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ বিএসএফ ও পুলিশের সহায়তায় ওই কিশোরীকে তার মা–বাবার কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রেমিক দাবি করা তরুণকেও তাঁর মা–বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

ওই কিশোরীর প্রেমিক দাবি করা তরুণ আবদুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।