অবশেষে নিজের আপরাধ স্বীকার করেনিলেন ভাইরাল হওয়া সেই সোহেল


আগের সংসারের কথা স্বীকার করেছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালে শারীরিক প্রতিবন্ধী রওশনকে ভালোবেসে বিয়ে করা সেই সোহেল মিয়া পাশাপাশি মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। সোহেল বলেন, ‘আমি আগে একটা বিয়ে করেছিলাম। তবে সেই সংসারে আমি টিকতে পারিনি। নানা কারণে আমাকে ওই সংসার ছাড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি প্রতারণা করিনি। আমি রওশনকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। ১৪ বছরে তার আপদ বিপদে আমি তাকে ছেড়ে যাইনি। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি।’

সম্প্রতি সময়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালের সোহেল মিয়া ও প্রতিবন্ধী রওশন দম্পতির অনবদ্য প্রেমের গল্প এখন দেশজুড়ে আলোচনার মুখ্য বিষয়। শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে পিঠে নিয়ে ১৫ বছরের সংসারের সেই প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক গণমাধ্যমে সংবাদ হিসেবে প্রচারের পর তাদের খোঁজ নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আক্তারুজ্জামান তাদের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। এবার ঘটনা ভিন্ন পথে মোর নিয়েছে। সোহেল সম্পর্কে বেড়িয়ে এসেছে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য।

আগের সংসারের কথা নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি।তার আসল নাম মোখলেছুর রহমান (বকুল)। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। আগের সংসারে স্ত্রী ছাড়াও তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।তবে এসব তথ্য গোপন করেছিলেন সোহেল মিয়া। শুধু তাই নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অনুতপ্ত হয়ে সোহেল বলেন, রওশনকে বিয়ের পর আমি বাড়িতে গিয়েছিলাম ক্ষমা চাইতে, কিন্তু তারা মেনে নেয়নি। আগের সংসারের স্ত্রী-সন্তানেরাও চাইত না আমি তাদের পরিচয় দেই। তাই সেই তথ্য সামনে আনতে চাইনি, গোপন করেছি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে বলেন, প্রেমের সময় রওশনকে বলেছিলাম আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। এই একটা মিথ্যা কথা আজ আমার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন কেউ আমার এই ১৪ বছরের ভালোবাসা দেখছে না। শিক্ষাগত যোগ্যতার মিথ্যা কথা বলাটা আমার ভুল হয়েছে। এজন্য সবার কাছে আমি ক্ষমা চাই।

তিনি এসএসসিও পাস করেননি জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা আমার বাড়িতে আসার পর পরিচিত একজন লেখাপড়ার বিষয়টি মিথ্যা বলার জন্য শিখিয়ে দিয়েছিল। তাই বলেছিলাম।

১৯৯২ সালে শুরাতন বেগম নামে একজনকে বিয়ে করেন বকুল। তাদের সংসারে চার সন্তানের জন্ম হয়। অভাব-অনটনে দিন দিন ঋণগ্রস্ত হতে থাকায় ১৫ বছর আগে কাজের কথা বলে ঢাকায় চলে যান তিনি। আর ফেরেননি। এমনকি তিন বছর আগে তার মা মারা যাওয়ার কথা জানালেও তিনি আসেননি।

এই বিষয়ে সোহেলের পূর্বের স্ত্রী শুরাতন বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেমেয়েদের নিয়ে তিনি তখন থেকেই অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন। এমনকি বকুল পালানোর সময় বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিয়ে ও জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছিল। সেই ঋণের টাকা শোধ করতেই তিনি ক্লান্ত হয়ে গেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী যে প্রতারণা করেছে তা সবাই জানুক।এদিকে এ ব্যাপারে মিডিয়ায় বাড়াবাড়ি না করতে আকুতি জানিয়েছেন রওশন আক্তার। তিনি বলেন, সোহেলের আগের সংসার নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি আমাকে ভালোবাসেন, এটি মিথ্যা নয়। প্রায় ১৫টি বছর ধরে আমার মতো অসুস্থ একজনের সঙ্গে সংসার করছেন তিনি। আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে তাকে জয় করেছি।

তিনি হাত জোড় করে বলেন, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, আমার সংসারটি কেউ ভাঙবেন না। আমি একজন প্রতিবন্ধী, আপনাদের মতো আমি সুস্থ নই।

সোহেলের আগের স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে রাজি জানিয়ে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের কাছে বিষয়টি নিয়ে আর কিছু প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন রওশন।

এর আগে রওশন-সোহেল দম্পতির ভালোবাসার গল্প ভাইরাল হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসককে তাদের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে। গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আক্তারুজ্জামান সোহেল ও রওশন দম্পতির বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সহায়তা করা হবে বলে জানান।