দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারে মদের বোতল, লাশ নিতে পুলিশের সঙ্গে স্বজনদের সংঘর্ষ ১৫ জন আহত


চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ জনের মরদেহের ময়নাতদন্তকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিয়ে যেতে চাইলে স্বজনদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চিতোষী বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে পুলিশ, এতে (গুলিতে) কেউ হতাহত হননি। তবে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বলেন, নিহতদের গাড়িতে এক বোতল হুইসকি পাওয়া গেছে। আবার তাদের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্নও ছিল না। এজন্য আমাদের সন্দেহ হয়েছে। একই গাড়িতে পাঁচ জন লোক ছিল। অথচ কেউই দরজা খুলে বের হতে পারলো না। বিষয়টি খুবই সন্দেহজনক। এ কারণে আমরা লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ভিসেরা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তরের অনুমতি দেননি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও। এ অবস্থায় ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তর করার সুযোগ নেই আমাদের।

তিনি বলেন, লাশগুলো নিয়ে যাওয়ার পথে চিতোষী বাজার এলাকায় নিহতদের স্বজনরা আসেন। সেখানে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হন। পুলিশের গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় মনোহরগঞ্জের তিন জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করতে প্রশাসনের কাছে যান স্বজনরা। তবে এতে তারা ব্যর্থ হন। বিকালে উঘারিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে নিহতদের মরদেহ শাহরাস্তি থানায় নেওয়ার পথে স্বজনরা বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মরদেহ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্রায় আধাঘণ্টা সংঘর্ষের পর পুলিশ তিন জনের মরদেহ নিয়ে থানায় চলে যায়। এ সময় পুলিশসহ ১৫ আহত হন।

শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টার দিকে কুমিল্লা থেকে মনোহরগঞ্জ যাওয়ার পথে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পূর্ব নরহ গ্রামের মোল্লার পুকুরে পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান খোকনের ছেলে শাহপরান তুষার (২২), একই এলাকার নরপাইয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে শাকিল (২৩), চাঁপা কেশতলা গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে রেজাউল করিম (২৩), যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে নয়ন (২৪) ও গাড়িচালক গাজীপুর সদর উপজেলার উত্তর খাইলকুর গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন (২৪)।

শাহরাস্তি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, বেপরোয়া গতি আর বাঁকের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যারা মারা গেছে তাদের একজনের বাবা আমাদের জানিয়েছেন, কুমিল্লায় তাদের এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু গাড়িতে মাদক পাওয়ার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে আমাদের।