এই যুদ্ধে এতটা প্রতিরোধও ভাবেনি রাশিয়া

কিয়েভ পরিস্থিতি আগের মতোই আছে। চারদিকে যুদ্ধ হচ্ছে। এখন ভয় বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে। ’ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আটকে পড়া এক বাংলাদেশি গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে কালের কণ্ঠকে টেলিফোনে এ কথা বলেন।

পেশায় ব্যবসায়ী ওই বাংলাদেশি ইউক্রেনে আছেন ১৯৮২ সাল থেকে। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনগণের প্রায় ৩০ শতাংশ নৃতাত্ত্বিকভাবে রুশ। তারা ছাড়া বাকিরা দিন দিন রাশিয়াবিরোধী হয়ে উঠছিল। আট বছর ধরে নানা ঘটনাপ্রবাহে ইউক্রেনে এ ধরনের অবস্থা তৈরি হয়েছে। এখন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তা কাজে আসছে।

ওই বাংলাদেশির সঙ্গে গতকাল বিকেলে আবারও যখন কালের কণ্ঠের কথা হয়, তখনো রাশিয়ার বাহিনী কিয়েভে ঢুকতে পারেনি। তিনি বলেন, ইউক্রেন আক্রমণের আগেই অনুশীলনের নাম করে রাশিয়া তার লক্ষাধিক সেনা ইউক্রেনের বিভিন্ন সীমান্তে নিয়ে এসেছিল। রাশিয়া চেয়েছিল অভিযান শুরুর দু-এক দিনের মধ্যেই ইউক্রেন দখল করে নিতে। তবে তা এখনো সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশি ওই ব্যবসায়ী বলেন, ইউক্রেনের পশ্চিম দিকের বিভিন্ন শহরে একসঙ্গে হামলা সবার জন্যই অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ তারা ভেবেছিল, রাশিয়া হয়তো দোনেত্স্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণের দিকে দখল করার চেষ্টা করবে। যাতে কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেনের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তাতে অর্থনৈতিকভাবে ইউক্রেন বড় বিপর্যয়ে পড়বে। কিন্তু রাশিয়া পুরোপুরি একটি যুদ্ধে যাবে এটি কেউ কোনো দিন দুঃস্বপ্নেও চিন্তা করেনি। এমন চিন্তা না করার পক্ষেও ইতিহাসসহ বিভিন্ন কারণ আছে।

এই বাংলাদেশি বলেন, পশ্চিম দিক দিয়ে হামলার অর্থ হলো রাশিয়া মনে করেছিল, সর্বোচ্চ দুই দিনেই তারা কিয়েভ পৌঁছে যাবে। কিন্তু বিষয়টি এত সহজ হয়নি। তিনি বলেন, রাশিয়া ২০১৪ সালে দানিয়ুভ, লুকাস ও ক্রিমিয়া দখল করেছিল। আট বছরে ইউক্রেন অনেক শক্তিশালী ও সংগঠিত হয়েছে। সে কারণে রাশিয়া এবার এখনো এমন সাফল্য পায়নি।