জাপানে “সি অফ ট্রি” নামে একটি বন আছে, যেখানে কিছুদূর হাঁটলেই দেখতে পাবেন গাছের ডালে মানুষের কঙ্কাল ঝুলছে, কিন্তু কেনও?

আন্তর্জাতিক শিক্ষা শিল্প-সাহিত্য

এই পৃথিবীতে আপনার উপস্থিতির অনেক বেশি প্রয়োজন। জাপানে “সি অফ ট্রি” নামে একটি বন আছে। যেখানে কিছুদূর হাঁটলেই দেখতে পাবেন গাছ গুলোর ডালে মানুষের কঙ্কাল ঝুলছে! প্রতি বছর এখানে প্রচুর মানুষ সুইসাইড করতে আসে! কেউ কেউ অনেক দূর দেশ থেকে টাকা খরচ করে মরতে আসে! মানুষ নিরিবিলিতে মারা যেতে পছন্দ করে।
…..মৃত্যুর জন্য এই জায়গাটি বেছে নেয় কেন জানেন? যেন কেউ কখনো খুঁজে না পায়… মানুষ বড় অভিমানী প্রাণী… মনোবিজ্ঞানীরা এখন বলছে প্রতিটি সুইসাইডের রক্তে তিনটি element মিশে থাকে…
১-অভিমান
২-হতাশা
৩-আত্মবিশ্বাসের অভাব…
……পুলিশ সদর দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর সুইসাইড করছে প্রায় দশ হাজার! অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ২৭ জন! এই টুকু একটা দেশে প্রতি ঘণ্টায় ১ জনের বেশি সুইসাইড করছে !!!
এত অভিমানী মানুষ ?…. ..এই ব্যাপার গুলো কেন ঘটে ? মানুষ সাধারণত একটি বিশেষ ঘটনায় সুইসাইড করে না। এই রোগটি সে তার ভেতরে অনেক দিন থেকে লালন করে। মানুষের অনুভূতি অনেক বেশি….
প্রতিটি মানুষ একজন লেখক…একজন গায়ক… একজন কবি… একজন নেতা… এই পৃথিবীতে আপনার উপস্থিতি অনেক বেশি প্রয়োজন। অভিমান করে চলে যাবার জন্য আপনার জন্ম হয় নি।
বিশ্বে গা ছমছম করা কিছু জায়গাঃ গাছের সাগর বা “সি অফ ট্রি” নামে খ্যাত ৩৫ বর্গ কিলোমিটারের এই জঙ্গলটি জাপানের মাউন্ট ফুজি বনের উত্তর পশ্চিম অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। নিরবিচ্ছিন্ন গাছ পালার ঘনত্ব আর বন্যপ্রাণীর অনুপস্থিতির কারণে এই বনটি অনেকটা শান্ত হওয়ায় এটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় জায়গা। তবে এই জায়গাটি জাপানি পৌরনিক ইতিহাসে একটি ভৌতিক স্থান হয়ে আছে। বিশেষ করে Tower of Wave (ja:波の塔,Nami no Tou,1960 উপন্যাস বইয়ের Seichō Matsumoto ২টি চরিত্র এখানে আত্মহত্যা করার কারণে এর পর থেকে জায়গাটি জাপান সহ বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে আত্মহত্যার একটি মূখ্যম জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা চলে আত্মহত্যার জন্য বিশ্বে সানফ্রান্সিসকোর “গোল্ডেন গেইট ব্রিজের” পরেই এর স্থান এখন। এই ঘন জঙ্গলে গাছের সাথে ঝুলে প্রতি বছর অনেক লোক আত্মহত্যা করে মারা যায়। ২০০২ সালে জাপান সরকার ৭৮টি মরদেহ পেয়েছিল এই বন থেকে আর ২০০৩ সালে এই সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ১০০ জনে।কে জানে হয়তো আরো বেশিই ছিলো যা তারা মিস করেছে! আর এই আত্নহত্যার প্রবণতা বাড়ে প্রতি বছর মার্চ মাসের শেষের দিকে। আত্মহত্যা বন্ধে বনের ভেতর বিভিন্ন জায়গায় লেখা আছে ” Life is precious thing! please reconsider!” অথবা “Think your family”