জাল কাগজ দেখিয়ে শপথ নিয়েছেন জায়েদ খান?

জাল কাগজ দেখিয়ে শপথ নিয়েছেন জায়েদ খান, এমনই অভিযোগ করেছেন অভিনেতা সাইমন সাদিক ও অভিনেত্রী নিপুণ। রবিবার হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এদিন প্রতিক্রিয়া জানাতে এফডিসিতে আসেন সাইমন সাদিক ও নিপুণ।

গত ৪ মার্চ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে শপথ নিয়েছেন জায়েদ খান। তার সঙ্গে শপথ নিয়েছেন সহ-সভাপতি পদে ডিপজল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী, সদস্য পদে সুচরিতা ও অরুণা বিশ্বাস।

নির্বাচনী আপিল বোর্ড কর্তৃক জায়েদ খানের প্রার্থীতা বাতিলকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তাতে করেই জায়েদ খানের দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। তাই ইলিয়াস কাঞ্চনের নিকট শপথ নেন।

অবশ্য জায়েদ খানের শপথ নেওয়ার পূর্বে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছিলেন, জায়েদকে শপথ করাবেন তবে আদালতের রায়ের সার্টিফায়েড কপি দেখার পর। জায়েদ কাগজ দেখিয়েই শপথ নেন।

আর এই কাগজকে জাল কাগজ বলছেন নিপুণ ও সাইমন সাদিক। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জায়েদ খান। তিনি বলেন, কোর্ট থেকে আসা কোন কাগজটা সার্টিফায়েড না? কোর্টে রায় হয়ে গেছে গোটা বিশ্ব জানে। আমি কোর্ট অর্ডার নিয়েই শপথ নিয়েছি, এছাড়াও ল ইয়ার সার্টিফিকেটও যোগাড় করেছি। আমি যদি ভুয়া কাগজ যোগাড় করে শপথ নিই, তাহলে নিপুণ কি ভুয়া কাগজ দেখিয়ে আপিল করলেন? রায় হয়েছে বলেই তো সেটার প্রমাণ দেখিয়ে আপিল করেছেন উনি।

রবিবার সন্ধ্যায় এফডিসিতে নিপুণকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার সময় সাইমন বলেন, ‘কোর্ট থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো কাগজ বের হয়নি। কোর্ট থেকে যে রায় এসেছিল, তার কোনো কাগজ দেয়া হয়নি। তাহলে কিসের কাগজ দেখিয়ে শপথ নিয়েছেন জায়েদ খান? যে কাগজ দেখানো হয়েছে সেটি ভুয়া ছিল। আমরা ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ার কাছে জানতে চেয়েছিলাম। উনি বলেছেন, কাগজ সঠিক কিনা জানেন না। আজ আমরা আদালতে গিয়ে জানতে পেরেছি কাগজটি আইনসিদ্ধ নয়। ‘
রায়ের কপি কি আসলেই ভুয়া ছিল?

এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠের আদালত প্রতিবেদক জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেতে একটু সময় লাগে, সপ্তাহ পেরিয়ে যায়। তবে প্রয়োজনে কেউ শর্ট অর্ডার নিতে পারেন। জামিন নেওয়ার ক্ষেত্রে এটা প্রয়োজন হয়। এছাড়াও রায় পাওয়ার পরে তাঁর আইনজীবীর কাছ থেকে ল ইয়ার সার্টিফিকেট নিতে পারেন।

কিন্তু বাংলাদেশের আদালত ওপেন কোর্ট, ওপেন কোর্টে যখন কোনো রায় হয় সেক্ষেত্রে শপথ বা এ ধরনের কাজে কোনো রায়ের কপির প্রয়োজন হয় না। যেমন নিপুণ চেম্বার আদালতে আপিল করছেন, তিনি যে পদ্ধতিতে আপিল করেছেন সেখানে রায়ের কপি দেখাতে হয়নি।