কুমিল্লা কারাগারে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর, শেষ ইচ্ছা গরুর মাংস-নান রুটি খাওয়ায় ।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর শফিউদ্দিন হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শিপন হাওলাদার এবং নাইমুল ইসলাম ইমনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের প্রায় ১৮ বছর পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় দুই আসামির দণ্ডিত রায় ফাঁসি কার্যকর হয়।কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ বলেন, সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিপন হাওলাদার এবং নাইমুল ইসলাম ইমনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। আরো কিছু আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর তাদের মরদেহ স্বপরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য , বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী-১ চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী ছিলেন শফিউদ্দিন। এ ছাড়া তিনি স্থানীয় রেলওয়ে আমবাগান এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়কও ছিলেন। জড়িত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের রাজনীতির সাথেও।এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মদ, জুয়া ও রেলওয়ের অবৈধ সম্পদ দখলের প্রতিবাদে শফিউদ্দিন সোচ্চার থাকার কারণে রেলওয়ের জায়গা থেকে চার দফায় অবৈধ বস্তি ও কলোনি উচ্ছেদ করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এসব ঘটনার জেরে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৩ সালের ১৪ জুন সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তার সরকারি বাসায় ঢুকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে বোমা ফাটিয়ে এলাকা ত্যাগ করে ঘাতক দল।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহমুদা বেগম বাদী হয়ে খুলশী থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০০৪ সালের ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে এ হত্যা মামলায় দুই ঘাতক শিপন ও ঈমনকে ফাঁসি ও অপর সাত আসামিকে যাবজ্জীবন এবং চারজনকে খালাস দেন।