রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিপাকে পশ্চিমারা

ইউক্রেনে অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার ওপর অবিবেচনাপ্রসূত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এখন বিপাকে পড়েছে খোদ পশ্চিমারা। সর্বশেষ গতকাল রাশিয়ার তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কংগ্রেসম্যানদের চাপে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এর ফলে মার্কিন অর্থনীতিই চাপে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটেনের একজন রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক পতনের সম্মুখীন হবে। রুশ তেলের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। এমন সিদ্ধান্ত সমগ্র বিশ্বের জন্য ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি রাশিয়ার তেলের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক বলেছে, ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে এই প্রথম ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর জ্বালানির দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় যুক্তরাজ্যের পারিবারিক আয় সর্বাধিক কমে যাচ্ছে। রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন বলেছে যে, বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের দামের নাটকীয় বৃদ্ধি এ বসন্তে যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতিকে ৮ শতাংশের ওপরে ঠেলে দেবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে আসন্ন আর্থিক বছরে ব্রিটেন জুড়ে গড় আয় ৪ শতাংশ কমে যাবে – যা পরিবার প্রতি ১ হাজার পাউন্ড মূল্যের সমান এবং এটা ১৯৭৫ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।
লড়াইয়ের দুই সপ্তাহেরও কম সময় পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলেছে যে, ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা ২০ লাখে পৌঁছেছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, এ সংখ্যার মধ্যে ১০ লাখ শিশু রয়েছে।

রাশিয়াকে আটকাতে সামরিক অভিযান চালায়নি আমেরিকা। কিন্তু রাশিয়াকে চাপে ফেলতে চেষ্টার কোনো কসুর করেনি জো বাইডেনের প্রশাসন। একাধিক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে পুতিনের দেশের ওপর। প্রথমে সুইফট ব্যাঙ্কিং সিস্টেম থেকে রাশিয়ার ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে বাদ দিয়ে শুরু হয়েছিল সেই কাজ। তারপরে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার সেই কাজে আরো একধাপ এগোল আমেরিকা। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপাল জো বাইডেন সরকার। কোনোরকম উস্কানি ছাড়াই ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার প্রতিবাদে এ পদক্ষেপ বলে খবর হোয়াইট হাউস সূত্রের। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতে আমেরিকায় একটি ঘোষণার মাধ্যমে বাইডেন এ নিষেধাজ্ঞা দেন। রাশিয়ার আয়ের একটা বড় অংশ তেল ও গ্যাস রফতানির উপর নির্ভর করে। সেখানে কোপ বসালে রাশিয়ার কোষাগারে ধাক্কা দেওয়া সম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাশিয়ার ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে এ ঘোষণা করলেও চাপ হবে আমেরিকারও। আমেরিকা যে পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করে তার দশ শতাংশের কম রাশিয়া থেকে আসে। ফলে এই কারণে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে বাড়তে পারে জ্বালানির দাম। রাশিয়ার তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস দুইয়ের উপরেই এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে আমেরিকার তরফে। তবে এখনই এ নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটছে না আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ইউরোপের দেশগুলো। কারণ আমেরিকার তুলনায় ওসব দেশ রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ইউরোপের প্রায় চল্লিশ শতাংশ জ্বালানি তেল আসে রাশিয়া থেকেই। ফলে এখনই ওই পথে হাঁটলে রাশিয়ার থেকেও বেশি অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে হতে পারে ইউরোপের দেশগুলোকে। যদিও ঘুরপথে রাশিয়াকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে আমেরিকার পথেই হেঁটেছে তাদের সহযোগী ইউরোপের দেশগুলো। আকাশসীমা বন্ধ করা থেকে বাণিজ্যে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করা হচ্ছে ইউক্রেনকেও।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমশ চড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। ফলে চাপ বাড়ছে বিশ্বজুড়েই। যুদ্ধ বন্ধ না হলে দামের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা ভেবে আশঙ্কায় অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ব্রিটেনের একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক বলেছে, ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে এই প্রথম ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের পর জ্বালানির দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় যুক্তরাজ্যের পারিবারিক আয় সর্বাধিক কমে যাচ্ছে। রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন বলেছে, বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের দামের নাটকীয় বৃদ্ধি এ বসন্তে যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতিকে ৮ শতাংশের ওপরে ঠেলে দেবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে আসন্ন আর্থিক বছরে ব্রিটেন জুড়ে গড় আয় ৪ শতাংশ কমে যাবে – যা পরিবার প্রতি ১ হাজার পাউন্ড মূল্যের সমান এবং এটা ১৯৭৫ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।

থিঙ্কট্যাঙ্ক বলেছে যে, দুর্বল মজুরি বৃদ্ধি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি আরো বেশি শিশুকে দারিদ্র্যের দিকে নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনে তার সৈন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার আগে ইউকে-তে মুদ্রাস্ফীতি ইতোমধ্যেই ছিল ৫.৫ শতাংশ যা ৩০ বছরের সর্বোচ্চ হার। এখন অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন যে, বৈশ্বিক তেল এবং গ্যাসের দামের ওপর দ্ব›েদ্বর প্রভাব বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াবে।
যদিও যুক্তরাজ্য রাশিয়া থেকে তার গ্যাস সরবরাহের তুলনামূলকভাবে খুব কম উৎস – তার মোট আমদানির প্রায় ৫ শতাংশ- ক্রমবর্ধমান সঙ্ঘাতের মধ্যে সরবরাহ বিধিনিষেধের আশঙ্কা বিশ্বব্যাপী পাইকারি মূল্যকে চালিত করেছে। সোমবার তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৩৯ ডলারে পৌঁছে যা পরে প্রায় ১২৫ ডলারে ফিরে এসেছে।
রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন বলেছে যে, যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি তাই এই বসন্তে ৮.৩ শতাংশে সর্বোচ্চ, বা ১৯৯১ সালের এপ্রিলের ৮.৪ শতাংশের হারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ১৯৮২ সাল থেকে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের পরিমাপের জন্য সর্বোচ্চ স্তর ছিল।

এটি বলেছে যে, গত মাসে ঘোষিত সরকারের জ্বালানি সহায়তা প্যাকেজে প্রদত্ত ৩৫০ পাউন্ড বুস্ট ছাড়া পরিবারের আয়ের ক্ষতি অরো বড় হত। এটিকে বিবেচনায় না নিয়ে গত সপ্তাহে ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার বিশ্লেষকরা কমপক্ষে ১৯৫৬ সাল থেকে জীবনযাত্রার মান সবচেয়ে বড় পতনের পূর্বাভাস দিয়েছেন।
থিঙ্কট্যাঙ্ক বলেছে যে, সুনাককে চাপ থেকে পরিবারগুলোকে রক্ষা করার জন্য এড়িয়ে যাওয়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম কোরলেট বলেছেন: ‘তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত চ্যান্সেলর তার আসন্ন বসন্ত বিবৃতিতে সুবিধাগুলোর পুনর্বিবেচনা করা’।
ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম মঙ্গলবার বলেছে যে, ফেব্রæয়ারিতে মোট বিক্রয় এক বছরের আগের একই মাসের তুলনায় ৬.৭ শতাংশ বেড়েছে এবং মহামরি শুরু হওয়ার আগে ২০২০ সালের একই মাসের তুলনায় ৪.৯ শতাংশ বেড়েছে।
তবে, কনসোর্টিয়ামের প্রধান নির্বাহী হেলেন ডিকিনসন বলেছেন, শিগগিরই বিক্রি চাপে আসবে। ‘ভবিষ্যত ক্রমশ অনিশ্চিত দেখাচ্ছে, বর্তমান চাহিদা টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা নেই’ তিনি বলেন। ‘বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি বিল বৃদ্ধি এবং এ বসন্তে জাতীয় বীমা বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় সর্পিল হতে থাকবে। পরিবারগুলো নিম্ন নিষ্পত্তিযোগ্য আয়ের মুখোমুখি হওয়ার সাথে সাথে, বিবেচনামূলক ব্যয়টি চাপ অনুভব করার প্রথম জিনিসগুলোর মধ্যে একটি হবে’।

একজন রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ সতর্ক করেছেন যে, ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক পতনের সম্মুখীন হবে। বরিস জনসনের অধীনে পররাষ্ট্র দফতরের প্রাক্তন ডেপুটি স্যার অ্যালান ডানকান সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, রাশিয়ার সাথে নিষেধাজ্ঞা এবং খারাপ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গ্যাস খরচের ওপর বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন যে, পশ্চিমা দেশগুলোকে রাশিয়ার গ্যাস ক্রয় চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে এমন আরো উল্লেখযোগ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়ানো উচিত।

‘আমরা অবশ্যই রাশিয়াকে যুদ্ধের একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হিসাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে চাই। তবে আমরা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না যাতে আমরা একধরনের ডিস্টোপিয়ান অর্থনৈতিক পতনের মধ্যে পড়ে যাই। আমরা এর প্রান্তে রয়েছি।

‘এখন, উদাহরণ স্বরূপ, গ্যাজপ্রমের সহায়ক সংস্থাগুলো রয়েছে, যেগুলো অনুমোদিত নয়, যেগুলি রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত নয়, যেগুলো যুক্তরাজ্যে একটি ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা গ্যাসের মসৃণ প্রবাহের জন্য অপরিহার্য’।
যেখানে যুক্তরাজ্য তার প্রায় ৩ শতাংশ গ্যাসের জন্য শুধুমাত্র রাশিয়ার ওপর নির্ভর করে, রাশিয়া ইউরোপের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত – যার অর্থ সরবরাহে কোনো বাধা ব্রিটেন যে গ্যাস এবং তেল আমদানি করে তার পাইকারি খরচের ওপর একটি বড় প্রভাব ফেলবে এবং এর ফলে ভোক্তাদের জন্য আরো ব্যয়বহুল।

ভøাদিমির পুতিন গ্যাস এবং তেলের দাম বাড়িয়ে বা সরবরাহে হস্তক্ষেপ করে পশ্চিমাদের কঠোর বক্তব্য বা নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নিতে পারেন এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ইউক্রেন আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপ রাশিয়ার ওপর জ্বালানির জন্য তার নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে এমন একটি লক্ষণে, জার্মানি ফেব্রæয়ারিতে নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপ লাইন বন্ধ করে দেয়।

বরিস জনসন এর আগে জ্বালানি সরবরাহের জন্য মস্কোর ওপর ইউরোপের অতিরিক্ত নির্ভরতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন। ‘আমি মনে করি সমস্ত ইউরোপীয় দেশকে এখন যা করা দরকার তা হল নর্ড স্ট্রিমকে রক্তের প্রবাহ থেকে বের করে আনা’ -তিনি ফেব্রæয়ারিতে বলেছিলেন। ‘আমাদের শক্তির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং রাশিয়ার ওপর কিছু খুব, খুব গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতি আরোপ করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে’।

রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারি : এদিকে রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। এমন সিদ্ধান্ত সমগ্র বিশ্বের জন্য ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে আসবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি রাশিয়ার তেলের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের শাস্তি হিসেবে দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও দেশটির ইউরোপীয় মিত্রদের এ সিদ্ধান্তে সমর্থন নেই। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস এরইমধ্যে এই মার্কিন পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। সোমবার এক টেলিভিশন বক্তব্যে এমন পরিকল্পনা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বকে সাবধান করেছেন রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি এখন নিশ্চিত যে রাশিয়ার তেলের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে বিশ্ব বাজারে তার ভয়াবহ প্রভাব পরবে। তেলের দাম ‘আনপ্রেডেক্টেবল’ হয়ে উঠবে। এমনকি ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইউরোপের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ গ্যাস আর ৩০ শতাংশ তেল রাশিয়া থেকে আসে। এই সরবরাহ বন্ধ হলে খুব সহজ কোন বিকল্পও নেই। নোভাক বলেন, রাশিয়ার বিকল্প তেলের বাজার খুজতে ইউরোপের এক বছরের বেশি সময় লাগবে এবং সেটি পারলেও তাদের তেল কিনতে হবে অনেক বেশি দাম দিয়ে। ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের উচিৎ তাদের নাগরিক ও ভোক্তাদের সততার সঙ্গে জানিয়ে দেয়া যে, কী ভয়াবহ পরিণতি আসতে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আপনারা যদি রাশিয়ার জ্বালানী তেল প্রত্যাখ্যান করতে চান, চালিয়ে যান। আমরাও প্রস্তুত। রাশিয়া ভাল করেই জানে এই তেল কোথায় বিক্রি করতে হবে।

নোভাক বলেন, নর্ড স্ট্রিম ২ এর উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এখন আমাদের অধিকার আছে গ্যাসের উপরে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার। এখনো আমরা সে ধরণের কোনো সিদ্ধান নেইনি। কিন্তু ইউরোপীয় রাজনীতিবিদরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের বিবৃতি ও অভিযোগ তোলার মাধ্যমে আমাদেরকে সেদিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

ইউরোপে আরো সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা : রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের কথা ভেবেই ন্যাটো-র হাত শক্তিশালী করতে ইউরোপের সীমান্তবর্তী দেশগুলিতে আরো সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পোল্যান্ড, রোমামিয়া, জার্মানি ও গ্রিসে আরো ৫০০-র বেশি সেনা মোতায়েন করা হবে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। তবে ইউক্রেনে সেনা পাঠাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জন কিরবি।

গত সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে জন কিরবি জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলিকে সাহায্য করতে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ন্যাটোকে শক্তিশালী করতে পোল্যান্ড, রোমামিয়া, জার্মানি ও গ্রিসে নতুন করে আরও ৫০০-র বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।
কিরবি জানিয়েছেন, এবারে নতুন করে যে সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে তার মধ্যে ওয়াশিংটনের এয়ারফোর্স বেস থেকে কেসি-১৩৫ যুদ্ধবিমানসহ ১৫০ জন সেনা গ্রিসে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া জর্জিয়ার ফোর্ট স্টিওয়ার্ট থেকে বায়ুসেনাকে সাহায্য করার জন্য ৪০ জন সেনা পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। আবার অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির কেন্দ্র উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্রাগ এবং সহায়তা সংস্থা ফোর্ট স্টিওয়ার্ট থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সহ ৩০০ মার্কিন সেনা জার্মানিতে পাঠানো হচ্ছে। সূত্র : রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, ইয়াহু নিউজ।