‘দুই সন্তান হত্যার বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবো’নাপা সিরাপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা

সম্প্রতি সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাপা সিরাপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা টক অফ দ্যা কান্টিতে পরিণত হয়েছে। দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নড়ে চড়ে বসেন ওষুধ প্রশাসনও। দেশে থাকা সকল নাপা ওষুধের পরীক্ষার করেন। ওষুধে কোনো প্রকার বিষাক্ত পর্দাথ পাওয়া যায়ন।

মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে পুলিশের সদস্যরা। প্রথম দিকে রিমাকে সন্দেহ হয়। পরে জানাযায়, পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার জন্য শিশুদের হত্যা করা হয়। বিষ মিশ্রিত মিষ্টি খাইয়ে দুই শিশুসন্তান ইয়াছিন খান (৭) এবং মোরসালিন খানকে (৫) হত্যা করে মা রিমা আক্তার। ওই মিষ্টি এনে দিয়েছিল রিমার প্রেমিক সফিউল্লাহ ওরফে সোফাই মিয়া। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) বিকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রিমার এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষুবের সৃষ্টি হয়। এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনায় জড়িত রিমা এবং তার প্রেমিক সফিউল্লাহর ফাঁসি চেয়েছেন। নজরপাড়ার বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, মা হয়ে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছে না। এ ঘটনায় জড়িত রিমা ও সফিউল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা।

একই পাড়ার বাসিন্দা নেহার বেগম বলেন, ঘটনার পর থেকে রিমার গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। পুলিশ ও সাংবাদিকরা এলে কান্নার ভান করতো। পরে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করেছিল। এখন নিশ্চিত হলাম, রিমা ও তার প্রেমিক এই ঘট্না ঘটিয়েছে। সেই সঙ্গে এই এলাকার মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। তাদের কারণে এলাকায় নাপা ওষুধ বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আমরা তাদের ফাঁসি চাই।

নিহত দুই শিশুর বাবা ইটভাটাশ্রমিক ইসমাইল হোসেন সুজন বলেন, দুদিন আগে রিমার কাছে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমটি চেয়েছিলাম। রিমা প্রথমে জানায় মোবাইল ও সিম ভেঙে ফেলেছে। মোবাইল না দিলে আমি আত্মহত্যার হুমকি দিই। পরে জানায় মোবাইলসহ সিমটি সফিউল্লাহ সোফাই মিয়ার কাছে। সোফাই মিয়ার কাছে কেন জানতে চাইলে ঝগড়া লেগে যায়।

একপর্যায়ে জানায়, তার সঙ্গে সোফাই মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক আছে। তাকে বিয়ে করবে। পথের কাঁটা সরিয়ে দেওয়ার জন্য সোফাই মিয়ার পরামর্শে মিষ্টির সঙ্গে বিষ খাইয়ে আমার দুই সন্তানকে হত্যা করেছে। বুধবার দুপুরে হত্যার কথা আমার কাছে স্বীকার করে রিমা। রাতে তাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের কাছেও হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুজন বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িত রিমা এবং তার প্রেমিক সোফাই মিয়ার ফাঁসি চাই। দুই সন্তান হত্যার বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সফিউল্লাহর সঙ্গে লিমার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক চলছিল। ঘটনার পর থেকে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ তা নিশ্চিত হয়। বুধবার রাতে রিমাকে পুলিশের হেফাজতে আনা হয়। দুই শিশুর মৃত্যুর পর থেকে পলাতক রয়েছে সফিউল্লাহ।