সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: যোগ দিচ্ছে সেনাবাহিনী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাড়িয়েছে। আগুনে দগ্ধ হয়েছে ৪০০’র বেশি মানুষ। কেমিক্যাল কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। এরপর আগুন ছড়াতে থাকে। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫ শতাধিক কনটেইনারে আগুন লেগে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যোগ দিচ্ছে সেনাবাহিনী। ওই ডিপোর পাশেই ড্রেন রয়েছে, যেটা সরাসরি নদীতে চলে গেছে। কনটেইনার থেকে কেমিক্যাল ড্রেন হয়ে যাতে নদীতে না চলে যেতে পারে সেই ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য ইতিমেধ্যই ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দিয়ে কাজ করছে।

জানা গেছে, গতকাল রাত ৯টার দিকে বিএম কন্টেইনার ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কন্টেইনার থেকে অন্য কন্টেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি কন্টেইনারে রাসায়নিক থাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্থানীয় শ্রমিকসহ অনেকে হতাহত হন।

সবশেষ খবর অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট কাজ করছে। দগ্ধ ও আহতদের মধ্যে ১৯ জনকে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৩০ জন এবং পুলিশ সদস্য রয়েছেন ১০ জন।

আগুন নেভানোর বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলের একজন কর্মকর্তা বলেন, যেভাবে বিস্ফোরণ হচ্ছে তাতে আমাদের পক্ষে ভেতরে থাকা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আমরা ডিপোর মেইনগেটে চলে এসেছি। একটানা কাজ করতে গিয়ে পানির সংকটেও ভুগতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকে। আগুন নেভানোর কাজ কখন শেষ হতে পারে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেফটি ফার্স্ট। বিস্ফোরণ যেভাবে হচ্ছিল তাতে ভেতরে থাকা সম্ভব ছিল না। আগুন কতক্ষণে নেভাতে পারব, এ বিষয়ে কিছুই বলা সম্ভব নয়।